দেশে দৈনিক আক্রান্ত সামান্য বাড়লেও লাখের নীচেই, স্বস্তি রাজ্যেও

IMG-20210531-WA0018.jpg

Onlooker desk: মঙ্গলবারের থেকে সামান্য বেড়ে আজ, বুধবার ২৪ ঘণ্টায় ৯২ হাজার ৫৯৬জনের শরীরে নতুন করে করোনা সংক্রমণের হদিস মিলল। এই নিয়ে পরপর দু’দিন ১ লক্ষের নীচে নামল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। তবে মৃত্যু দু’হাজারের উপর। বুধবার ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ২ হাজার ২১৯ জন। পজিটিভিটি রেট এ দিনও পাঁচের কম — ৪.৬৭ শতাংশ।
পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য পরিস্থিতি অনেকখানিই স্বস্তির। ৩৬ দিন পরে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ১০০-র কম। সে দিন মারা গিয়েছেন ৯৮ জন। আক্রান্তও আগের দিনের তুলনায় কমে হয়েছে ৫৪২৭। সংক্রমণের হার ৯.৭৮ শতাংশ।
দেশে এখনও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য মহারাষ্ট্র। তারপরে রয়েছে কর্নাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ।
টিকার আকালে একের পর এক টিকাকরণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রবল সমালোচনার মুখে কেন্দ্র মঙ্গলবার জানিয়েছে, অগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৪৪ কোটি কোভিড টিকার ডোজ হাতে আসবে তাদের। এর মধ্যে কোভিশিল্ড ২৫ কোটি, কোভ্যাক্সিন ১৯ কোটি।
সোমবারই জাতির উদ্দেশে ভাষণে নতুন টিকা নীতির কথা ঘোষণা করেছেন প্রাধনমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২১ জুন থেকে ১৮ ঊর্ধ্ব সকলকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য মোটা টিকা উৎপাদনের ৭৫ শতাংশ কিনে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। বাকি ২৫ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতালগুলি কিনবে। যা বিক্রি করা হবে গ্রাহকদের। মঙ্গলবার বেসরকারি হাসপাতালে টিকার সর্বোচ্চ দাম বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। এ নিয়ে কংগ্রেসের প্রবল সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে কেন্দ্রকে। রাহুল গান্ধীর প্রশ্ন, বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হলে তার দাম বাঁধার অর্থ কী?
এ দিকে, আসন্ন তৃতীয় ঢেউয়ের মুখে সকলকে আশ্বস্ত করে এইমসের প্রধান, চিকিৎসক রণদীপ গুলেরিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে এমন কোনও তথ্য নেই, যা থেকে এ কথা প্রমাণ হয় যে থার্ড ওয়েভে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হবে।
উঠে এসেছে আশঙ্কার কথাও। পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির গবেষকরা একটি প্রবল ছোঁয়াচে স্ট্রেনের হদিস পেয়েছেন ব্রাজিলের দুই পর্যটকের শরীরে। তবে ভারতীয়দের কারও শরীরে এখনও এই স্ট্রেন মেলেনি বলে এখনই এ নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত না-হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। লাগাতার ভোলবদল করে চলা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় টিকাকরণেই জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ দিকে, রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর মঙ্গলবার যে বুলেটিন প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪২৭ জন। মারা গিয়েছেন ৯৮ জন। তবে এখনও উদ্বেগে রাখছে উত্তর ২৪ পরগনা। সেখানে একদিনে আক্রান্ত ১,১০৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। তার পরে রয়েছে কলকাতা। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫২৮, মৃত ২১। এ বাদে পূর্ব মেদিনীপুর (৪৫২), জলপাইগুড়ি (৪১১), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩৪১), পশ্চিম মেদিনীপুর (৩১২), নদিয়া (৩০৬) ও হাওড়ায় (৩০২) দৈনিক সংক্রমণ অন্যান্য জেলের তুলনায় বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top