জেলের ভিতরে নিরাপত্তা বলয়ে শুটআউট, মৃত তিন গ্যাংস্টার

WhatsApp-Image-2021-05-14-at-5.39.10-PM.jpeg

Onlooker desk: জেলের ভিতরে শুটআউট।
শুক্রবার জেলে বন্দি এক গ্যাংস্টার দুই কুখ্যাত অপরাধীকে একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন ব্যারাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত গ্যাংস্টার অংশুল দীক্ষিতকে পরে গুলি করে মারে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আরও পাঁচ বন্দির দিকে বন্দুক উঁচিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল অংশুল। যে দুই অপরাধীকে সে এ দিন হত্যা করে, তারা হলো পশ্চিম উত্তর প্রদেশের গ্যাংস্টার মুকিম কালা এবং মিরাজউদ্দিন ওরফে মিরাজ। সে আবার জেলবন্দি বিধায়ক মুখতার আনসারির সঙ্গী। নিরাপত্তাভঙ্গের এই ভয়ঙ্কর ঘটনা উত্তর প্রদেশের চিত্রকূট জেলে। তবে কী থেকে গোলমালের সূত্রপাত, তা স্পষ্ট নয়। এলাহাবাদ রেঞ্জের অ্যাক্টিং ডিআইজি পি এন পাণ্ডে বলেন, ‘চিত্রকূট জেলের ঘটনাটি শুনেছি। সেখানে যাচ্ছি। বিস্তারিত তথ্য পেলে এ সম্বন্ধে কিছু বলা যাবে।’
জেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ দেশি পিস্তল থেকে গুলি চালিয়ে মুকিম ও মিরাজকে হত্যা করে অংশুল। পরে আরও পাঁচজনকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। জেলের ভিতরে তার কাছে দেশি পিস্তল কী করে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই নিরাপত্তার ব্যারাকে আরও অস্ত্র মজুত আছে কি না, দেখা হচ্ছে তা-ও। ওই আধিকারিক বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই জেল ও পুলিশের অফিসাররা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা অংশুলকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ না-হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে মেরে বাকি বন্দিদের উদ্ধার করা হয়।’
শামলির বাসিন্দা মুকিম কালার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, ডাকাতি-সহ ৬১টি মামলা রয়েছে। ২০১৬-য় শামলির কৈরানা থেকে প্রচুর বাসিন্দা প্রাণভয়ে পালাচ্ছেন বলে খবর মেলে। অভিযোগ ছিল, মুকিম ও তার দলবলের হুমকির মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালান হিন্দুরা। দিন পাঁচেক আগে শাহারানপুর জেল থেকে চিত্রকূটে স্থানান্তরিত করা হয় তাকে।
অন্যদিকে, গাজিপুরের মিরাজের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, প্রতারণা, অস্ত্র আইনে মামলা-সহ ১৪টি কেস রয়েছে। বারাণসীর একটি জেল থেকে গত ২০ মার্চ চিত্রকূটে আনা হয় তাকে।
সীতাপুরের বাসিন্দা অংশুল গ্রেপ্তার হয় ২০১৪-য়, জোড়া খুনের মামলায়। সুলতানপুর জেল থেকে ২০১৯-এর ৮ ডিসেম্বর চিত্রকূট জেলে আসে সে। ২০১৮-য় শিরোনামে এসেছিল অংশুল। সে বার একটি ভিডিয়ো ক্লিপে অন্য একদল বন্দির সঙ্গে মিলে রায়বরেলির একটি জেল থেকে তোলা চেয়ে ফোন করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। জেলার ও ডেপুটি জেলারকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিল সে। জেলের ভিতরে মদ ও অন্যান্য সামগ্রী পাঠানোরও নির্দেশ দিতে শোনা গিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top