এবার থেকে বাধ্যতামূলক সোনার গয়নায় হলমার্ক, কিন্তু তার মানে কী?

Gold-ornaments.jpg

Onlooker desk: সোনার গয়নায় হলমার্ক (Hallmark) বাধ্যতামূলক হলো আজ, বুধবার থেকে। এতে একদিকে বজায় থাকবে সোনার (Gold )মান। অন্যদিকে সোনার দামেও সমতা থাকবে। সরকার জানিয়েছে, হলমার্কের (Hallmark) সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রাথমিক পর্বে তা কার্যকর হবে ২৫৬টি জেলায়।
সোনায় হলমার্ক (Hallmark) আদতে তার শুদ্ধতার সিলমোহর। এতদিন বিষয়টি ছিল ঐচ্ছিক। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ গয়নায় হলমার্কিং (Hallmark) হয়েছে। কিন্তু এ বার তা হচ্ছে বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ নির্ধারিত দামে তা ফের বিক্রি করা যাবে। হলমার্কের (Hallmark) ভিত্তিতে সোনার মূল্যায়ন হবে। ফলে ক্রেতারা আর প্রতারণার শিকার হবেন না। মানও যথাযথ বজায় থাকবে।
নতুন এই নিয়মের ফলে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের সোনা বিক্রি করতে পারবেন। সেগুলি হলো ১৪, ১৮ ও ২২ ক্যারেট সোনার গয়না। ২০, ২৩ এবং ২৪ ক্যারেটের গয়নাতেও হলমার্কিং করা যাবে। সরকার জানিয়েছে, এর ফলে সোনার গয়নার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি ক্রেতাদের সন্তুষ্টি এবং তাঁদের নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে।
বস্তুত, এ বছর জানুয়ারিতেই হলমার্ক (Hallmark) বাধ্যতামূলক করার কথা হয়। কিন্তু করোনার দাপট তুঙ্গে। সে কারণে গয়নার ব্যবসায়ীরাই চার মাস সময় চান।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার একটি টুইট করেন উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানান, ১৬ জুন থেকে প্রথমে ২৫৬টি জেলায় বাধ্যতামূলক হচ্ছে হলমার্ক (Hallmark)। ক্রেতাদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত।
মন্ত্রকের সচিব লীনা নন্দনও জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ধাপে ধাপে। এ নিয়ে গয়না শিল্পের কিছু প্রশ্ন ছিল। বৈঠক করে সে সব দূর করা হয়েছে। তবে আপাতত কিছু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যাঁদের বার্ষিক টার্নওভার ৪০ লক্ষ টাকার নীচে, তাঁরা তা পাবেন। এ ছাড়া ছাড়ের আওতায় আসবেন সোনার গয়নার আমদানি-রপ্তানিকারকরা। আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে মিলবে ছাড়।
সরকার অনুমোদিত বি২বি জাতীয় প্রদর্শনী থাকবে হলমার্ক (Hallmark) ছাড়ের আওতায়। ঘড়ি, ফাউন্টেন পেন, কুন্দন, পোলকি, জড়োয়ার গয়নার ক্ষেত্রেও ছাড় মিলবে। পুরোনো হলমার্ক (Hallmark) ছাড়া গয়না কিনতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
২০০০ সাল থেকে সোনার গয়নায় হলমার্কিং (Hallmark) শুরু হয়। তা করে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস। দেশে লাখ চারেক জুয়েলার আছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৮৭৯ জন ওই ব্যুরোর শংসাপত্র প্রাপ্ত। ভারত বছরে ৭০০-৮০০ টন সোনা আমদানি করে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের পরিসংখ্যান তা-ই জানাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top