কোভিড-বিধি উড়িয়ে উত্তর প্রদেশের হাপুরে গঙ্গা দশেরায় সমাগম ভক্তদের

Thousand-gather-in-Hapur.jpg

Onlooker desk: কুম্ভমেলার অভিজ্ঞতা যে কিছুই শেখায়নি, তা প্রমাণ করল হাপুর (Hapur)।
আজ, রবিবার গঙ্গা দশেরা। সেই উপলক্ষ্যে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটল উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) হাপুরের ব্রজঘাটে। উদ্দেশ্য, গঙ্গায় ডুব দেওয়া। যার জেরে চুলোয় উঠেছে কোভিড-বিধি। তবে এই সমাগমে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছিল কি না, সেটা স্পষ্ট নয়।
কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ সারা দেশে যে চেহারা নিয়েছিল, তা ভোলার নয়। আন্তর্জাতিক নানা সংবাদমাধ্যমেরও শিরানামে আসে ভারতের গণচিতার খবর। বর্তমানে করোনার (Coronavirus) দাপট অনেকখানি কম। গত ৮১ দিনের মধ্যে রবিবার দৈনিক সংক্রমণ সবচেয়ে কম। এ দিন গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ হাজার ৪১৯ জনের শরীরে নতুন করে সংক্রমণের হদিস মিলেছে।
কিন্তু সংক্রমণের সংখ্যা কমার কারণে বিধি মানার ক্ষেত্রে গা-ছাড়া মনোভাব দেখালেই বিপদ। বিশেষজ্ঞরা বারবার সে ব্যাপারে সতর্ক করছেন। এইমস প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া শনিবারই জানিয়েছেন তৃতীয় ঢেউ অনিবার্য। এবং বিধি না-মানলে বিপদ বাড়বে। ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব অজয় ভাল্লাও শনিবার বিভিন্ন রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থায় জোর দিতে বলেছেন। পাশাপাশি আনলকিংয়ের আগে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন ভাল্লা।
উত্তর প্রদেশে ধীরে ধীরে আনলক শুরু হয়েছে। রেস্তোরাঁ বা মল ৫০ শতাংশ উপস্থিতি নিয়ে খুলতে চলেছে। তবে সপ্তাহান্তের লকডাউন থাকছে। তা ছাড়া ধর্মীয় বা যে কোনও ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ।
গত এপ্রিলে হরিদ্বারে কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। যা দ্বিতীয় ঢেউয়ের বাড়বাড়ন্তের পিছনে অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হয়।
কিন্তু তার পরেও হাপুরে (Hapur) আজ প্রচুর মানুষের জমায়েত হয়। হাপুরের জেলাশাসকের একটি নির্দেশে কিন্তু অন্য কথা বলা হয়েছে। তা হলো, সরকারি আনলকিং গাইডলাইন অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থানে পাঁচজনের জমায়েত চলবে না। সে কথা মাথায় রেখে অতিমারীতে গঙ্গা দশেরায় গঙ্গাস্নান বন্ধ।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দ্রুত আনলকে (Unlock) বিপদ ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি কোভিড-বিধিতে গা-ছাড়া ভাব দেখালেও বিপদ। এই দুয়ের জেরে তৃতীয় ঢেউ সময়ের আগেই হাজির হবে।
প্রথম ঢেউয়ের পরেও করোনা-বিধি মানার ক্ষেত্রে একই রকম গাফিলতি দেখা দেয়। তার জেরে দ্বিতীয় ঢেউয়ের এই রমরমা বলে সরকারের বক্তব্য। সেই সঙ্গে যোগ দেয় ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট। যা প্রবল সংক্রামক এবং অনেক দ্রুত ছড়িয়েছে। তৃতীয় ঢেউয়েও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top