আন্দোলনকারীদের নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা, হরিয়ানায় পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভ কৃষকদের

farmers-knock-down-police-barricade.jpg

Onlooker desk: কৃষি আইনের বিরোধিতায় দিল্লি সীমানায় এখনও আন্দোলন জারি রয়েছে। এর মধ্যে ওই একই ইস্যুতে আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হচ্ছে হরিয়ানাতেও। দিন কয়েক আগে কৃষি আইনের বিরোধিতায় গাঙ্গোয়ারের সরকারি গাড়িও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে একদল কৃষকের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার জেরে শ’খানেকেরও বেশি আন্দোলনকারীর নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। শুরু হয়েছে ধরপাকড়। তারই বিরোধিতায় শনিবার হরিয়ানার সিরসায় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলন শুরু করলেন কৃষকরা।
গত নভেম্বর থেকে আন্দোলন চালাচ্ছেন কৃষকরা। কিন্তু এই প্রথম তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা রুজু হল। জানা গিয়েছে, গত ১১ জুলাই বিজেপি নেতা তথা হরিয়ানা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার রণবীর গাঙ্গোয়ারের উপরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কৃষি আইনের বিরোধিতায় গাঙ্গোয়ারের সরকারি গাড়িও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় শ’খানেকের বেশি আন্দোলনকারীর নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা রুজু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। এরই বিরোধিতায় এদিন আন্দোলনে নামেন কৃষকরা।
দিল্লি থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্বের সিরসায় শনিবার সকাল থেকে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়। কৃষকদের আন্দোলন সামাল দিতে বিশাল আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। অবশ্য তাতে থেমে থাকেনি কৃষকদের আন্দোলন। ধৃতদের মুক্তির দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। এ দিন দুপুরে কৃষকদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আন্দোলনকারী সংগঠনের অন্যতম সংযুক্ত কিষান মোর্চা কিছু দিন আগে একটি বিবৃতি জারি করে। কৃষকদের বিরুদ্ধে আনা ধারাগুলিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন বলে অভিযোগ জানানো হয় সেখানে। এর বিরোধিতায় আদালতে যাওয়ার কথাও জানায় সংগঠনটি। সংগঠনের নেতাদের দাবি, ‘হরিয়ানার কৃষক-বিরোধী বিজেপি সরকারের নির্দেশেই এ সব করা হচ্ছে।’
এদিকে বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রদ্রোহিতা আইনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই আইনকে ‘ঔপনিবেশিক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা। এমনকী স্বাধীন দেশে এই আইনের কী দরকার, তা নিয়েও প্রশ্নও তুলেছেন প্রধান বিচারপতি। আদালতের কথায় — এই আইন ঔপনিবেশিক। সেটাই বিতর্কের কারণ। মহাত্মা গান্ধীর কণ্ঠরোধে এই আইনই প্রয়োগ করেছিল ব্রিটিশ সরকার। ব্যবহার করা হয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য। সেই সূত্রেই স্বাধীনতার ৭৪ বছর পরে আইনটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের মধ্যেই কৃষকদের বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে এই ধারা। ফলে আন্দোলনকারী কৃষকরা সর্বোচ্চ আদালতে মন্তব্যকেও সামনে আনছেন।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top