কুম্ভ মেলায় ভুয়ো কোভিড রিপোর্ট, পাঁচটি ল্যাব ও মালিকদের বাড়িতে ইডি হানা

Kumbh-Mela-fake-Covid-test-scam.jpg

Onlooker desk: টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কুম্ভ মেলায় (Kumbh Mela) ভুয়ো কোভিট টেস্ট রিপোর্ট (fake Covid report) তৈরির বড়সড় অভিযোগ উঠল। ভুয়ো রিপোর্ট বানিয়ে উত্তরাখণ্ড সরকারের থেকে ৩.৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাঁচটি ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে শুক্রবার ওই সব ল্যাবরেটরি ও সেগুলির মালিকদের বাড়িতে তল্লাশি চালাল ইডি (Enforcement Directorate)।
যে ল্যাবরেটরিগুলিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, সেগুলি হল — নোভাস প্যাথ ল্যাবস, ডিএনএ ল্যাবস, ম্যাক্স কর্পোরেট সার্ভিসেস, ডঃ লালচন্দানি ল্যাবস প্রাইভেট লিমিটেড এবং নালওয়া ল্যাবরেটরিজ প্রাইভেট লিমিটেড। দেরাদুন, হরিদ্বার, দিল্লি, নয়ডা ও হিসারে এই ল্যাবরেটরিগুলির মালিকদের অফিসেও তল্লাশি চালায় ইডি। শুক্রবার বিবৃতি জারি করে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
এ ব্যাপারে উত্তরাখণ্ড পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে। যার ভিত্তিতে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টে (পিএমএলএ) তদন্ত শুরু করেছে ইডি। দেখা গিয়েছে, উত্তরাখণ্ড সরকার এই ল্যাবরেটরিগুলিকে কুম্ভ মেলার (Kumbh Mela) সময়ে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট কিংবা আরটি-পিসিআর এর দায়িত্ব দেয়।
ইডির (Enforcement Directorate) অভিযোগ — এই ল্যাবরেটরিগুলি র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট বা আরটি-পিসিআর কোনওটাই করেনি। উল্টে নামের ভুয়ো এন্ট্রি করে। এবং ভুয়ো বিল বানিয়ে বেআইনি ভাবে আর্থিক ফায়দা তুলেছে।
বিবৃতিতে ইডি (Enforcement Directorate) ‘মোডাস অপারেন্ডি’র কথাও জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে — ল্যাবরেটরিগুলি একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটিই মোবাইল নম্বর বা ভুয়ো ভুয়ো মোবাইল নম্বর বা ঠিকানা বা স্পেসিমেন রেফারেল ফর্ম ব্যবহার করেছিল। ফলে প্রকৃত টেস্টের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় রিপোর্ট (fake Covid report) তৈরি করা সম্ভব হয়। কুম্ভ মেলায় (Kumbh Mela) আদৌ যাননি, এমন ব্যক্তিদেরও টেস্ট করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এই ভুয়ো রিপোর্টের ফলে হরিদ্বারের পজিটিভিটি রেট (প্রতি ১০০-য় কতজন সংক্রামিত) দাঁড়ায় ০.১৮ শতাংশে। অথচ কুম্ভ মেলার (Kumbh Mela) সময়ে হরিদ্বারের প্রকৃত পজিটিভিটি রেট ঠিল ৫.৩ শতাংশ।
ইডি ভুয়ো বিল, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, প্রপার্টি ডকুমেন্ট-সহ একাধিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। ৩০.৯ লক্ষ টাকা নগদও উদ্ধার হয়েছে। এই অভিযোগে তদন্ত এখনও চলছে।
কী করে জানা গেল এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের কথা? ফরিদকোটের বাসিন্দা এক ব্যক্তি অভিযোগ জানান, তাঁর কাছে কোভিড-১৯ এর রিপোর্ট সংগ্রহের কথা জানিয়ে মেসেজ এসেছে। অথচ তিনি কোনওদিন কোভিড টেস্ট করাননি। এই অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়। যার সূত্রে প্রায় ১ লক্ষ ভুয়ো র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের হদিস মেলে।
ম্যাক্স কর্পোরেট সার্ভিসেস, ডঃ লালচন্দানি ল্যাবস প্রাইভেট লিমিটেড এবং নালওয়া ল্যাবরেটরিজের বিরুদ্ধে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট এবং এপিডেমিক ডিজিজেজ অ্যাক্টে মামলা দায়ের করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। সংবাদমাধ্যমের পক্ষে সবক’টি ল্যাবরেটরির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, হিসারের নালওয়া ল্যাবের তরফে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ইডি (Enforcement Directorate) তার প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে গিয়েছে। আমাদের বক্তব্যও রেকর্ড করেছে।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top