দুই সন্তানের সামনে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন স্বামীকে

dead-body.jpg

প্রতীকী চিত্র

Onlooker desk: স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গুরুগ্রামের (Gurugram)। অভিযোগ, ঘটনার সময়ে দম্পতির দুই সন্তান সেখানে উপস্থিত ছিল। তাদের সামনেই স্বামী সচিনকে স্ত্রী গুঞ্জন খুন করেন বলে অভিযোগ। বছর ৩৯-এর সচিন পেশায় ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। চোখের সামনে এ রকম একটা ঘটনা দেখে মারাত্মক মানসিক চাপে পড়েছে দুই সন্তান। পুলিশ তদন্তে নেমেছে।
ঘটনাটি গত শুক্রবারের। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝডগড়া বাধে সে দিন। তা থেকেই এমন কাণ্ড বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে সচিনের বুকে কোপ মারেন গুঞ্জন।
এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন গুরুগ্রাম (Gurugram) পুলিশের এসপি, ক্রাইম প্রীতপাল সিং। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি জ্যোতি পার্ক কলোনির বলে জানা গিয়েছে। এক দম্পতির মধ্যে ঝগড়া তুমুল পর্যায়ে পৌঁছয়। তখন ছুরি নিয়ে স্বামীর বুকে কোপ মারেন স্ত্রী। তাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আমরা মামলা রুজু করেছি। তদন্ত চলছে।’ বৌদি গুঞ্জনের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানান সচিনের ভাই নীরজ। তার ভিত্তিতে এফআইআর রেজিস্টার করা হয়েছে।
সচিনের দুই বোন রেশমা ও শিল্পীও ঘটনার বিচার চান। তাঁরা বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত এর বিচার হোক। যত দ্রুত সম্ভব পুলিশ গুঞ্জনকে গ্রেপ্তার করুক। অবিলম্বে শুরু হোক বিচার ও শাস্তির প্রক্রিয়া। যে অপরাধ ও করেছে, তার ক্ষমা নেই।’
এখানেই থামেননি তাঁরা। বোন রেশমার অভিযোগ, ভাইঝিদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বৌদি। তিনি বলেন, ‘১১ বছরের বাচ্চা মেয়েটা এমনিতেই ত্রস্ত। তার উপরে তাকে শেখানো বুলি বলতে চাপ দিচ্ছে ওর মা। বলাচ্ছে, সে খুন করেনি। অনিচ্ছাকৃত ভাবে ছুরির কোপ পড়ে গিয়েছে সচিনের বুকে। কিন্তু এটা সত্যি নয়। ওকে কুপিয়ে মেরেছে ওর গুঞ্জনই।’
পুলিশ আবার অন্য কথা বলছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীর হাত থেকে ছুরিটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন সচিন। তখন তিনি আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান ভাই। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয় ওই যুবকের।
প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, সচিনের আচরণ বরাবরই নম্র-ভদ্র। সরোজ ভরদ্বাজ নামে এক পড়শি বলেন, ‘সচিন খুবই ভদ্র ছিল। কাজের সূত্রে বাইরে থাকত। শুক্রবার বাড়ি ফিরে রবিবার চলে যেত। আর এই দু’দিনেই প্রবল ঝগড়ার আওয়াজ পেতাম আমরা। কিন্তু সচিনের গলা কখনও পাইনি। গুঞ্জনের চিৎকার শোনা যেত। যখনই যেতাম, তখনই দেখতাম নিজেদের ঘরে ওরা ঝগড়া করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top