দেশে বাড়ছে ডেল্টা প্লাস, প্রথম মৃত্যুর পর ফের কড়াকড়ি মহারাষ্ট্রে

Delta-Plus.jpg

Onlooker desk: দেশে ১১টি রাজ্যে ৪৮টি ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের হদিস মিলেছে বলে জানাল সরকার।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেস পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্রে। শুক্রবার সেখানে এই ভ্যারিয়ান্টে প্রথম মৃত্যুর খবরও মিলেছে। এই সূত্রে রাজ্যের সমস্ত জেলায় তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ জারির কথা বলেছে মহারাষ্ট্র সরকার। এই রাজ্যে বর্তমানে ২০টি কেস রয়েছে।
তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধে কী খোলা কী বন্ধ? এ ক্ষেত্রে রেস্তোরাঁ, জিম, সালোঁ, স্পা বিকেল চারটে পর্যন্ত খোলা থাকবে। কর্মচারী ও উপভোক্তা ৫০ শতাংশের বেশি আসতে পারবেন না। বেসরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ হাজিরা। বিয়েতে ৫০ জন এবং শেষকৃত্যে বড়জোর ২০ জন হাজির হতে পারেন। মল ও সিনেমা হল বন্ধ।
তামিলনাড়ু ও মধ্যপ্রদেশে ন’টি এবং সাতটি কেসের সন্ধান মিলেছে। কেরালায় তিনটি। পাঞ্জাব ও গুজরাটে দু’টি করে। অন্ধ্র প্রদেশ, ওডিশা, রাজস্থান, কর্নাটক ও জম্মুতে একটি করে সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তবে এই নয়া ভ্যারিয়ান্টের সংক্রমণ আপাতত স্থানীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ বলে জানিয়েছে সরকার। এর গতিবিধি নিয়ে এখনও গবেষণা চালাচ্ছে আইসিএমআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি। বর্তমান টিকাগুলি এর বিরুদ্ধে কতখানি কার্যকর, পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তা-ও।
আরও ১২টি দেশে ডেল্টা প্লাসের হদিস পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, চিন, জাপান, রাশিয়া ও সুইৎজারল্যান্ড।
বুধবারই সরকার ডেল্টা প্লাসকে ‘ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ন’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে কনটেনমেন্ট করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের আনলক পর্বে সতর্ক করেছে সরকার।
অনেকের মতে এই ভ্যারিয়ান্টের কারণেই দেশে তৃতীয় ঢেউ আসবে। আবার অনেকে মনে করছেন, তা না-ও হতে পারে। সরকার বারবারই জানাচ্ছে, ডেল্টা প্লাসের সংক্রামক ক্ষমতা কতখানি, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। নজর রাখা হয়েছে বিষয়টির উপর।
মহারাষ্ট্রে এ দিন যাঁর মৃত্যুর খবর মিলেছে, তিনি এক বৃদ্ধা। প্রসঙ্গত, এর আগে মধ্য প্রদেশে ডেল্টা প্লাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাচক্রে তিনিও মহিলা। মহারাষ্ট্রের মৃতার বয়স ৮০। তাঁর নানা কো-মর্বিডিটি ছিল। রত্নগিরির এই বৃদ্ধা ভাইরাসের কাছে হার মানেন বলে জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে।
ডেল্টা প্লাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের মুখে সতর্ক মহারাষ্ট্র প্রশাসন একটি নির্দেশ জারি করেছে। মুখ্যসচিব সীতারাম কুন্তের ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, পজিটিভিটি রেট, হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা ইত্যাদি নির্বিশেষে সমস্ত জেলায় তৃতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ জারি করতে হবে। সাপ্তাহিক পজিটিভিটি রেটের নিরিখে বিধিনিষেধের মান ঠিক হবে। রেট দেখতে হবে আরটি-পিসিআর এর বিচারে। র‍্যাপিড অ্যাকশন টেস্টের নিরিখে নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top