মালয়লমে কথা নয়, বিতর্কিত সার্কুলার জারি করে চাপের মুখে প্রত্যাহার দিল্লির হাসপাতালের

delhi-hospital-withdraws-no-malyalam-diktat.jpg

টুইটে সরব রাহুল গান্ধী ও শশী থারুর

Onlooker desk: কেবল হিন্দি বা ইংরেজিতে কথা বলা যাবে। মালয়লম ভাষায় কোনও নার্সকে কথা বলতে শোনা গেলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে সার্কুলার জারি হয়েছিল দিল্লির গোবিন্দ বল্লভ পন্থ ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে। তা নিয়ে প্রবল বিতর্কের মুখে অবশেষে সার্কুলার প্রত্যাহার করলেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, তাঁদের দাবি, ওই বিজ্ঞপ্তি তাঁদের অগোচরেই জারি হয়েছিল। দিল্লির স্বাস্থ্য দপ্তরও এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠিয়েছে।
গত শনিবার নার্সিং সুপারের জারি করা ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল — কিছু নার্স নিজেদের মধ্যে মালয়লম ভাষায় কথা বলছেন বলে তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বেশিরভাগ রোগী ও অন্য কর্মীরা ওই ভাষা বোঝেন না বলে তাঁরা অসহায় বোধ করেন ও জটিলতা তৈরি হয়। সে কারণে হিন্দি ও ইংরেজি বাদে অন্য ভাষা বলা যাবে না এবং মালয়লমে কথোপকথন চালালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় ওই সার্কুলারে।
এর জেরে প্রবল বিতর্ক দেখা দেয়। রাহুল গান্ধী, শশী থারুর-সহ বহু কংগ্রেস নেতা সরব হন। রবিবার সকালে রাহুল টুইটে লেখেন — মালয়লম যে কোনও ভারতীয় ভাষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষা। ভাষাবৈষম্য বন্ধ হোক। কেরালার কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনকে ট্যাগ করে টুইটে এই ‘অসাংবিধানিক ও অদ্ভুত’ সার্কুলার অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। কেরালার নার্সরা কেমন নিরলস ভাবে বিশ্বজুড়ে মানুষের সেবা করছেন, তা-ও জানান তিনি। তাঁরা স্বাভাবিক ভাবেই নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলবেন। তা নিষিদ্ধ করা মানে বৈষম্য তো বটেই, মৌলিক অধিকার খর্ব করা। শশী থারুর কড়া ভাষায় টুইট করে জানিয়েছেন, এই বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top