পরিচয় জেনে মাথা থেঁতলে গুলিতে ঝাঁঝরা করা হয় দানিশকে, জানাচ্ছে একটি রিপোর্ট

Danish-Siddiqui.jpg

Onlooker desk: সংঘর্ষে নয়। নিশানা করে, হত্যার উদ্দেশ্যেই চিত্র সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকিকে (Danish Siddiqui) খুন করেছে তালিবান। তাঁর পরিচয় জানার পর নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় দানিশকে। একটি মসজিদে আশ্রয় নিলেও প্রাণরক্ষা করতে পারেননি ওই যুবক। আমেরিকার একটি ম্যাগাজিনের রিপোর্টে জানানো হয়েছে এ কথা।
কান্দাহারের স্পিন বোলডাকে আফগান বাহিনীর সঙ্গে তালিবানের (Taliban) সংঘর্ষের খবর সংগ্রহে গিয়েছিলেন দানিশ (Danish Siddiqui)। সেখানেই নিহত হন রয়টার্সের পুরস্কারজয়ী এই চিত্র সাংবাদিক। ঘটনার জেরে দেশ-দুনিয়া জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালিবান (Taliban) তখন জানায়, দানিশের (Danish Siddiqui) পরিচয় তাদের জানা ছিল না। সে কারণেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মারা গিয়েছেন তিনি। এই হত্যার দায় অস্বীকার করে চরমপন্থী এই সংগঠন।
পাকিস্তানের এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তের কাস্টমস পোস্টের অদূরে তালিবানি হামলায় দানিশের (Danish Siddiqui) সঙ্গে থাকা আফগান সেনার দলটা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কম্যান্ডার-সহ কয়েক জন একদিকে ছিটকে যান। সিদ্দিকি (Danish Siddiqui) থেকে যান আরও তিন আফগান সেনার সঙ্গে।
এই সময়ে দানিশ সংঘর্ষে আহত হন। ওই তিন আফগান সেনার সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যান তিনি। এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে, ওই মসজিদের ভিতরে একজন সাংবাদিক রয়েছেন। তা জানতে পেরে আক্রমণ চালায় তালিবান (Taliban)। এলাকায় তদন্তের পর জানা গিয়েছে, কেবল দানিশ (Danish Siddiqui) ওই মসজিদে রয়েছেন বলেই সেখানে তালিবানি (Taliban) হামলা চালানো হয়।
ওই রিপোর্টে লেখা হয়েছে — তালিবানের হাতে ধরা পড়ার সময়ে দানিশ (Danish Siddiqui) জীবিত ছিলেন। তালিবান আগে দানিশের পরিচয় জানে। তারপরে তাঁকে হত্যা করে। তাঁর সঙ্গে থাকা বাকিদেরও খুন করে তারা। কম্যান্ডার ও তাঁর সঙ্গে থাকা দলের অন্য সদস্যদেরও রেহাই দেয়নি তালিবান।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মাইকেল রুবিন লিখেছেন — দানিশের যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে তাঁকে চেনা যাচ্ছে। কিন্তু আমি অন্য ফটো ও ভিডিয়ো দেখেছি। সেখানে স্পষ্ট যে তালিবান (Taliban) তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়। তারপরে গুলিতে তাঁর শরীর ঝাঁঝরা করে দেয়।
রিপোর্টে জানানো হয়েছে — দানিশের (Danish Siddiqui) পরিচয় জেনে, তাঁকে খুঁজে বের করে এ ভাবে হত্যা থেকে স্পষ্ট যে তারা যুদ্দের নিয়মের তোয়াক্কা করে না।
২০১৮-য় রোহিঙ্গা সঙ্কটের ছবির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পান দানিশ (Danish Siddiqui)। আফগানিস্তানের যুদ্ধ, হংকংয়ের প্রতিবাদ-সহ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপের বহু জরুরি ঘটনার ছবি তুলেছেন দানিশ।
তাঁর দেহ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় কবর দেওয়া হয় গত ১৮ জুলাই।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top