দেশে দৈনিক সংক্রমণ ৭০ দিনে সর্বনিম্ন, মৃত্যু নিয়ে চিন্তাই

coronavirus.jpg

Onlooker desk: স্বস্তি না অস্বস্তি, কোন দিকে যে পাল্লা ভারী, স্পষ্ট নয়।
একদিকে গত ৭০ দিনের মধ্যে দেশে দৈনিক সংক্রমণ সবচেয়ে কম — ৮৪ হাজার ৩৩২। অন্যদিকে, একদিনে মৃত্যু ৪০০২। তবে এই হিসাবের পিছনে মহারাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে। তাদের ‘ব্যাকলগ’ যুক্ত হওয়ার কারণেই দৈনিক মৃত্যু এতখানি বেড়েছে। দেশে এ পর্যন্ত ২ কোটি ৯৩ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে টিকিৎসা চলছে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজারের। পজিটিভিটি রেটের পতনও জারি রয়েছে। এই নিয়ে টানা পাঁচদিন তা পাঁচ শতাংশের কম। শনিবার পজিটিভিটির হার ৪.৩৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৯৮১টি অ্যাক্টিভ কেস কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাতীয় স্তরে কোভিড-মুক্তির হার বেড়ে হয়েছে ৯৫.০৭ শতাংশ।
কিন্তু এ সবের মধ্যে দৈনিক মৃত্যু এমনিতেই চিন্তায় রাখছে বিশেষজ্ঞদের। সংক্রমণ কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা সে ভাবে হ্রাস পায়নি। তার উপরে শনিবার একদিনে ৪০০২টি মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যার মধ্যে ২,২১৩টিই মহারাষ্ট্রের ‘ব্যাকলগ’। তা বাদে একদিনে শ’চারেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রে।
পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য পরিস্থিতি অনেকখানি স্বস্তির। শুক্রবার গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮৮৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের। মোট সংক্রমণের নিরিখে মৃত্যুর হার জাতীয় গড়ের চেয়ে কম। জাতীয় গড় যেখানে ১.২৫ শতাংশ, রাজ্যে তা ১.১৫ শতাংশ।
সংক্রমণের নিরিখে দেশে এখন সবার উপরে তামিলনাড়ু (১৫,৭৫৯)। তারপরে রয়েছে প্রতিবেশী কেরালা (১৪,২৩৩) এবং কর্নাটক (৮,২৪৯)। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত রাজ্য মহারাষ্ট্রে একদিনে ১১ হাজার ৭৬৬ জনের সংক্রমণের হদিস মিলেছে। পজিটিভিটির হার কিছুটা কমায় পুনেতে বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।
শুক্রবার তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে নতুন করে ২৩৮ জনের সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। সেরে উঠেছেন ৫০৪ জন। বর্তমানে রাজধানীতে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা চার হাজারেরও কম। ৮ এপ্রিলের পর সবচেয়ে কমে দিল্লিতে একদিনে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। পজিটিভিটি রেটও নেমেছে ১-এর নীচে। গত ৭ মার্চের পর শুক্রবার রাজধানীতে পজিটিভিটি রেট ০.৩১ শতাংশ।
গত মাসেই কোভিশিল্ডের দু’টি ডোজের মধ্যে ব্যবধান ৬-৮ সপ্তাহ থেকে বাড়িয়ে ১২-১৬ সপ্তাহ করেছে সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা উপদেষ্টা অ্যান্টনি ফাউচি জানিয়েছেন, ডোজের মধ্যে সময়ের ফারাক বাড়ানো হলে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। কেন্দ্র আবার এ নিয়ে চিন্তা না করার নির্দেশিকা জারি করেছে। সব মিলিয়ে আমজনতার বিভ্রান্তি চরমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top