সংক্রামিত লাখের নীচেই, বিহারের সূত্রে ৬০০০ পেরোল দেশের দৈনিক মৃত্যু

corona1.jpg

Onlooker desk: পরপর তিন দিন লাখের নীচেই থাকল দেশের দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যা। মঙ্গল ও বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও। এ দিন গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনার হদিস মিলেছে ৯৪ হাজার ৫২ জনের শরীরে। কিন্তু বিতর্ক বেধেছে মৃত্যুর সংখ্যায়। এ দিন ৬ হাজার ১৪৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যার অন্যতম কারণ, বিহারের মৃত্যুর হিসাবে বদল। পাটনা হাইকোর্টের নির্দেশে বিহারে মৃতের সংখ্যা ৭২ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেই হিসাব যোগ হওয়ারই প্রভাব পড়েছে দেশের পরিসংখ্যানে।
তবে ভারতে পজিটিভিটির হার (প্রতি ১০০ জনে কতজন পজিটিভ) নিম্নমুখীই। তিনদিন ধরেই সেই হার ৫-এর নীচে। বৃহস্পতিবার পজিটিভিটি রেট ৪.৬৯ শতাংশ। দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে সবার উপরে রয়েছে তামিলনাড়ু (১৭,৩২১)। তারপরে কেরালা (১৬,২০৪), মহারাষ্ট্র (১০,৯৮৯) এবং কর্নাটক (১০,৯৫৯)।
দেশে মোট অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা কমে বর্তমানে ১১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৫২। করোনামুক্তির হার বেড়ে হয়েছে ৯৪.৭৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, নতুন নির্দেশিকা জারি করে সরকার জানিয়েছে, শিশুদের কোভিড-১৯ চিকিৎসায় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডিসিভির ব্যবহার করা যাবে না। ১২-র ঊর্ধ্বের শিশুদের জন্য ‘কার্ডিয়ো-পালমোনারি এক্সারসাইজ টলারেন্স’ পরীক্ষার জন্য ৬ মিনিটের ওয়াক টেস্টের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।
টিকার ক্ষেত্রে আগামী মাসে কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রেজাল্ট জানানোর কথা। তারপরে তারা পুরোদস্তুর লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানাবে। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনের তুলনায় সিরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ডে শরীরে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। ভারত বায়োটেক এই সমীক্ষার দাবিকে ‘ভুল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২৫ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
এ দিকে, ত্রুটিমুক্ত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট পেতে কো-উইন অ্যাপে নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ‘রেজ অ্যান ইস্যু’ নামে ওই ফিচারের সাহায্যে ব্যবহারকারী তাঁর নাম, জন্মের সাল, লিঙ্গ ইত্যাদিতে ভুল থাকলে শুধরে নিতে পারবেন।
বম্বে হাইকোর্ট বুধবার জানিয়েছে, সীমান্তে দাঁড়িয়ে ভাইরাসের বেরোনোর অপেক্ষা না করে করোনার বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ধাঁচে লড়াই চালানো উচিত। পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্রমাগত ভোল বদলানো এই ভাইরাস রুখতে একমাত্র উপায় হতে পারে গণ টিকাকরণ। তার মাধ্যমে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির সাহায্যেই লড়াই সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top