সীমানা নিয়ে অসম-মিজোরাম সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন অসম পুলিশের ৬ অফিসার

Assam-Mizoram-Border.jpg

Onlooker desk: মিজোরাম (Mizoram) সীমানায় সংঘর্ষে মারা গেলেন অসম পুলিশের (Assam Police) ছ’জন অফিসার। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় সোমবার ফের একদফা সংঘর্ষের পর এ কথা জানান অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। দুই রাজ্যেরই মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মিজো-অসম সীমানা (Assam Mizoram Border) নিয়ে গোলমাল মেটাতে বলেছেন তিনি। দুই রাজ্যই তাতে রাজি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বেশ ক’জন পুলিশকর্মী-সহ অসমের অন্তত ৬০ জন বাসিন্দা জখম হয়েছেন। ছাছাড় পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট গুলিতে আহত হয়েছেন। কাল, মঙ্গলবার শিলচর যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার। টুইটে তিনি জানান, মিজোরামের পুলিশ যে অসম পুলিশকে নিশানা করতে হালকা মেশিন গান চালায়, সেটা স্পষ্ট। পাল্টা টুইট করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গাও।
মিজোরামের তিনটি জেলা — আইজল, কোলাশিব এবং মামিতের সঙ্গে সীমানা ভাগ করে অসম। ১৬৪.৬ কিলোমিটার লম্বা সীমানা বরাবর রয়েছে অসমের ছাছাড়, হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জ। মিজো-অসম সীমানা (Assam-Mizoram Border) ঘিরে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে গোলমাল হয়েই চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, উভয়েরই দাবি, মিজো-অসম সীমানা (Assam Mizoram Border) বরাবর অপর পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে।
সীমানার বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য বাউন্ডারি কমিশন গড়েছে মিজোরাম সরকার। মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গেও সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে অসমের।
এ দিনের ঘটনার পর অসম একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাদের অভিযোগ, লায়লাপুরের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস করে একটি রাস্তা বানাচ্ছে মিজোরাম। সেখানে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীদের একটি ক্যাম্পও করা হচ্ছে। এ নিয়ে আলোচনায় যায় অসম পুলিশ। তখন সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা তাদের উপরে হামলা চালায় বলে অসমের অভিযোগ। মিজোরামের পুলিশ এই দুষ্কৃতীদের সমর্থন করে এবং অসম পুলিশকে লক্ষ করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় বলে অভিযোগ। এমনকী, উত্তেজিত জনতাকে সামলানোর কথা বললে মিজো-পুলিশ তা করতে পারবে না বলে জানায়।
বিবৃতিতে অসম সরকারের দাবি — কোলাশিবের এসপি অফিসারদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময়ও মিজো-পুলিশ তাঁদের ও সাধারণ মানুষের উপরে গুলি চালায়।
উল্টোদিকে, যাবতীয় দায় অস্বীকার করে মিজোরামের দাবি, সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে অসম পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এ দিন সকাল ১১টা নাগাদ কোলাশিব যায় অসমের পুলিশ। জোর করে সিআরপিএফ পাহারা পেরিয়ে ডিউটি পোস্ট টপকে ঢোকে। মিজো পুলিশের বাধা পেরিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটায় তারা। তারপরে হাইওয়ের ধারে থাকা যানবাহনগুলিকে অসম পুলিশ নিশানা করে বলে মিজোরামের দাবি। স্থানীয় বাসিন্দারা এ সবের কারণ জানতে চাইলে তাঁদের লাঠিপেটা করা হয়। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়।
মিজোরামের বক্তব্য, অসম কোনও আলোচনাতেই রাজি নয়। তারা গোঁ ধরে রয়েছে। বিকেল ৪.৫০ নাগাদ অসম পুলিশ গুলি ছুড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। তার পাল্টা হিসাবেই গুলি চালায় মিজো পুলিশ। অথচ কোলাশিবের এসপি তখনও সিআরপিএফ ডিউটি ক্যাম্পে অসম পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন বলে মিজোরামের দাবি।
দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই সংঘর্ষের ভিডিয়ো শেয়ার করে অকে অন্যকে দুষেছেন। দিনদুয়েক আগেই শিলংয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অমিত শাহ। তার পরেই এই সংঘর্ষ ও প্রাণহানি।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top