টিকা নীতির প্রসঙ্গ উঠতেই ধুন্ধুমার সংসদীয় প্যানেলের বৈঠকে

covid19-vaccine.jpg

Onlooker desk: কেন্দ্রের টিকা নীতি নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাধল সংসদীয় প্যানেলের বৈঠকে। এ বিষয়ে আলোচনা করা যাবে না বলে ঘণ্টাখানেক বিরোধিতা চালান বিজেপি সদস্যরা। খানিকক্ষণের জন্য বৈঠক ছেড়ে বেরিয়েও যান তাঁরা।
এ দিন ছিল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্যানেলের বৈঠক। বৈঠকের শুরুতেই প্রথম ৫০ মিনিট সার্কুলেট করা অ্যাজেন্ডার বিরোধিতায় ব্যয় করে বিজেপি। অ্যাজেন্ডা ছিল দেশের টিকা নীতি। এ দিনের প্যানেল ডিসকাশনের বিষয় ছিল ‘দ্য ডেভেলপমেন্ট অফ ভ্যাকসিনস অ্যান্ড দ্য জিনোম সিকোয়েন্সিং অফ কোভিড ভ্যারিয়ান্টস’। কিন্তু এই সূত্রে টিকার দামে তারতম্য নিয়ে কথা ওঠে। যে কারণে রাজনৈতিক গোলমালের সূত্রপাত।
যার জেরে বিজেপি সাংসদরা মাঝপথে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। খানিকক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসেন। যদিও তাঁদের দাবি, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে উঠেছিলেন। তাঁরা ফেরার পর প্যানেলের চেয়ারম্যান, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানান, আদত আলোচ্য বিষয় নিয়েই কথা হবে।
যদিও তার পরেও কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক টিকার দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। বিভিন্ন টিকা বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে তা নানা দামেই কিনতে হচ্ছে গ্রহীতাদের। এমনটা কেন হবে, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
গত সোমবার দেশে নতুন টিকা নীতি মেনে টিকাকরণ শুরু হয়েছে। তাতে সরকারি সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ১৮ ঊর্ধ্বদের টিকা দেওয়ার কথা। তার আগে কেন্দ্রের তরফে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন কেবল ৪৫-এর বেশি বয়সিরাই পেতেন। ১৮-৪৪ বছর বয়সিদের টিকাকরণ ছিল রাজ্য ও বেসরকারি হাসপাতালের হাতে।
বিজেপি সাংসদরা এ দিন টিকা নীতি নিয়ে কোনও প্রশ্নই শুনতে চাননি। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই প্যানেল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে জড়িত। যা কেবল গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের কাজ করে।
সূত্রের খবর, এক বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘টিকা মজুত ও তার মূল্যের সঙ্গে এই মন্ত্রকের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়া ঠিক নয়।’ বিজেপি সাংসদদের আরও দাবি, এই পর্বে এ ধরনের আলোচনা প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেবে।
কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান ভি কে পলের এ দিন উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ছিলেন না। তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এক সদস্য। রমেশ অবশ্য এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।
তবে উপস্থিত ছিলেন আইসিএমআর-এর প্রধান বলরাম ভার্গব। সদস্যরা তাঁর কাছে জানতে চান, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য মাত্র ৪০ হাজার নমুনা সংগ্রহ কেন? যার জবাবে ভার্গব জানান, এই পরীক্ষার জন্য আইসিএমআর-এর কিছু বাঁদর প্রয়োজন ছিল। যা সেই মুহূর্তে হাতের কাছে মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top