টিকাকরণ নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র

CORONA-VACCINE.jpg

Onlooker desk: কোভিডের টিকাকরণ পদ্ধতি নিয়ে আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের জোরালো প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় সরকার। বিভিন্ন বয়সি মানুষের টিকাকরণের পদ্ধতি কেন ভিন্ন, টিকার জন্য রাজ্যগুলিকে কেন কেন্দ্রের থেকে বেশি টাকা দিতে হবে, গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে কো-উইনের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের পরিকল্পনাই বা কী, এ সব জানতে চায় শীর্ষ আদালত। এ বছরের মধ্যে সকলের টিকাকরণ সম্পন্ন করার কথা বলা হলেও তিনটি প্রশ্নে কেন্দ্র কী ভেবেছে, তা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের প্রশ্ন, ৪৫-ঊর্ধ্বদের জন্য কেন্দ্র যেখানে ১০০ শতাংশ টিকা দিচ্ছে, সে জায়গায় ১৮ থেকে ৪৪-এর মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে কেন? কোর্ট বলে — ৪৫-এর বেশি বয়সিদের জন্য টিকার পুরোটাই কেন্দ্র সংগ্রহ করছে। কিন্তু ১৮ থেকে ৪৪ এর মধ্যে প্রস্তুতকারী সংস্থার থেকে ৫০ শতাংশ রাজ্যগুলিকে কিনতে হচ্ছে, যার দাম কেন্দ্র স্থির করে দিয়েছে। বাকিটা দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে। এর ভিত্তিটা ঠিক কী, তা জানতে চায় আদালত।
এখানেই থামেনি সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এল এন রাও এবং বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটের বেঞ্চ বলে — ৪৫-এর বেশি বয়সিদের এই রোগ বেশি আক্রমণ করছে বলে যুক্তি ছিল কেন্দ্রের। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ে তো ওই বয়সিরা অতটা প্রভাবিত হচ্ছেন না। বরং বেশি ভুগছেন ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মানুষ। টিকা সংগ্রহ করাই যদি উদ্দেশ্য হয়, তা হলে কেবল ৪৫ ঊর্ধ্বদের জন্য করা হচ্ছে কেন? তা ছাড়া রাজ্যগুলিকে বেশি দামই বা দিতে হবে কেন, সে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, গোটা দেশের জন্য এক দাম নির্ধারণের দায়িত্ব নিতে হবে কেন্দ্রকে।
তা ছাড়া, কোউইন অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্টার করতে বলে কেন্দ্র প্রযুক্তিগত বিভেদ সৃষ্টি করেছে বলেও মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। গ্রামের মানুষ কী ভাবে ওই অ্যাপে রেজিস্টার করবেন, সে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। কেন্দ্র বলার চেষ্টা করে, গ্রামের মানুষ কম্পিউটার সেন্টারে গিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। যার প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত পাল্টা প্রশ্ন তোলে, এই সমাধান আদৌ বাস্তবসম্মত কি?
এ দিকে, কোভিশিল্ডের এক ডোজেই কাজ হয় কি না এবং দুই ডোজে দু’টি টিকা নিলে কোনও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে ব্যাপারে পরীক্ষা শুরু করতে চলেছে কেন্দ্র। একমাসের মধ্যে গবেষণা শুরু হয়ে মাস দু’আড়াইয়ের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে বলে সূত্রের খবর। এ জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে টিকা নেওয়ার পরে সমস্যার কথা জানানো যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top