টুইটারকে ‘শেষ সুযোগ’ দিয়ে হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

twitter.jpg

Onlooker desk: ভারতে নিজস্ব আধিকারিক নিয়োগের জন্য টুইটারকে শেষ সুযোগ দিল কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কেন্দ্রের নতুন নিয়ম মানা না হলে টুইটারকে ‘পরিণাম ভোগ’ করতে হবে বলেও ক্রমবর্ধমান উত্তাপের মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার। সরকারে বক্তব্য — শেষ সুযোগ দেওয়া হলো টুইটারকে। তারা নিয়ম না মানলে আইটি অ্যাক্টের ৭৯ ধারায় দায় থেকে অব্যাহতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে আইটি অ্যাক্ট ও ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারায় টুইটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই হুঁশিয়ারির খানিকক্ষণ আগেই নজরে আসে, ভাইস প্রেসিডেন্ট বেঙ্কাইয়া নাউডুর টুইটার অ্যাকাউ্নট থেকে ভেরিফিকেশনের চিহ্ন হিসাবে থাকা নীল টিক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অল্প সম। বাদে অবশ্য তা ফিরে আসে। টুইটার জানায়, ছ’মাসের বেশি সময় অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করা হয়নি। সে কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তারপরে জানা যায়, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত-সহ সঙ্ঘের সুরেশ সোনি, অরুণ কুমার, সুরেশ জোশী এবং কৃষ্ণ কুমারের টুইটার অ্যাকাউ্নট থেকেও ভেরিফিকেশনের ওই টিক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাইডুর টুইটার অ্যাকাড়্ট থেকে টিক সরানো নিয়ে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সরকারের অন্দরে। এ ভাবে একটি সাংবিধানিক পোস্টের অবমাননা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। সে জন্য টুইটারকে নোটিস পাঠানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার।
সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত নতুন নিয়ম অন্য প্ল্যাটফর্মগুলি মেনে নিলেও টুইটারের সঙ্গে এ নিয়ে কেন্দ্রের সংঘাত জারি রয়েছে। যার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারিতে। সেই সময় কিছু পোস্ট ব্লক করতে বলে কেন্দ্র। কিন্তু সরকার স্বাধীন মতামতের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে বলে অভিযোগ জানিয়ে সে কাজ করেনি টুইটার। বিষয়টি মোটেই ভালো ভাবে মেয়নি সরকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে দেশে নিজস্ব আধিকারিক নিয়োগ করতে বলা হয়। গত মাসে ফের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে টুইটারের অফিসে পুলিশ যায়। যার পরে সোশ্যাল মিডিয়ার এই জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম বাক্ স্বাধীনতা খর্ব হওয়া নিয়ে সরব হয়। ভারতে তাদের কর্মীরা নিরাপদ নন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সরকারের নতুন নিয়ম মেনে তারা ইন্টেরিম গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল অফিসার নিয়োগ করলেও কমপ্লায়ান্স ও নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়নি এখনও। তার উপরে খোদ উপরাষ্ট্রপতি এবং গেরুয়া শিবিরের মেন্টর আরএসএস নেতৃত্বের অ্যাকাউন্টে ‘ভেরিফিকেশনের’ নীল টিক সরিয়ে নেওয়ায় টুইটারের উপরে সরকারের ক্ষোভ প্রবল বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top