পাকিস্তানি কোয়াডকপ্টারের দেখা মিলল জম্মু সীমান্তে, বিএসএফের তৎপরতায় এড়ানো গেল বিপদ

quadcopter.jpg

প্রতীকী চিত্র

Onlooker desk: ফের পাকিস্তানি ড্রোনের হানাদারি জম্মুতে।
জম্মুর আর্নিয়ায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে একটি কোয়াডকপ্টার ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকালে। ইন্টেলিজেন্স সূত্রের খবর, জাবোয়ালের সীমান্ত আউটপোস্টের কাছে ড্রোনটিকে দেখা যায়। বিএসএফ জওয়ানরা গুলি চালালে উড়ে যায় সেটি।
বিএসএফ জানিয়েছে, সেটি একটি গুপ্তচর কোয়াডকপ্টার। নজরদারি চালাতেই সেটি ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
এ নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে বিএসএফ। তারা লিখেছে — শুক্রবার ভোর ৪টে ২৫ মিনিট নাগাদ একটি ছোট পাকিস্তানি কোয়াডকপ্টারের দেখা মেলে। সতর্ক বিএসএফ বাহিনী গুলি করলে উড়ে যায় সেটি। আর্নিয়া সেক্টর দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিল সেটি।
ড্রোনটি উড়ছিল জিরো লাইন এবং সীমান্তের কাঁটাতার বরাবর। গুলিটে সেটি সরে যায়। তার পরে এলাকায় তল্লাশি চালায় বিএসএফ। তবে আর কোনও অস্ত্র পাওয়া যায়নি। বিএসএফের জম্মু ফ্রন্টিয়ারের ইনস্পেক্টর জেনারেল এন এস জামওয়াল এ কথা জানিয়েছেন।
গত রবিবার জম্মুতে বায়ুসেনার বিমানবন্দরে হামলা চালায় একটি ড্রোন। তার পিছনে পাকিস্তানের মদত রয়েছে। লস্কর ই তৈবা এবং জইশ ই মহম্মদের ভূমিকাও আছে বলে সেনার দাবি। সেই হামলায় অন্তত দু’জন জওয়ান আহত হন। বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এমন হামলা নজিরবিহীন। তার দিনপাঁচেকের মধ্যে ফের কোয়াডকপ্টারের হদিস।
দেশের নিরাপত্তায় সাম্প্রতিকতম বিপদ এই ড্রোন। কালুচক, রতনুচক, সুঞ্জুয়ান ও কুঞ্জওয়ানিতে পরপর চারদিন তার দেখা মিলল।
ড্রোনের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলেই ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। প্রথমত ড্রোন সহজলভ্য। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ও ব্যক্তিগত কারণে তা ব্যবহার করা যায়। সে কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
গত রবিবারের ড্রোন হামলার পিছনে রাষ্ট্রের সুসংহত মদতের ইঙ্গিত দিয়েছে সেনা। তেমনই নারাভানে জানিয়েছেন, ড্রোনগুলির প্রযুক্তি বিশাল কিছু নয়। যে সব ড্রোন মাঝেমধ্যেই ভারতের আকাশে উড়ে আসছে, তা বাডি়তেই বানানো সম্ভব।
পাকিস্তান এমন ড্রোন হামলা লাগাতার চালিয়ে থাকে। পাক রেঞ্জাররা আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন করে। ড্রোনের হানাদারি চালানো কার্যত নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র ফেলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। এমনটাই দাবি বিএসএফের। কিন্তু তাদের সতর্ক পাহারায় এই চক্রান্ত বাস্তবায়িত হয় না।
পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারতীয় সেনা এবং বায়ুসেনা। আকাশ পথে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপও করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top