করোনায় বিধ্বস্ত শিল্পী সমাজের পাশে দাঁড়ান, বিহার সরকারকে আর্জি পদ্মশ্রীর

Padma-Shri-Shyam-sharma.jpg

Onlooker desk: করোনায় কাজ বন্ধ। আয় নেই। দিন চালানোই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইলেন বিহারের (Bihar) শিল্পী সম্প্রদায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পদ্মশ্রী (Padma Shri) সম্মানপ্রাপ্ত শ্যাম শর্মাও। তাঁরা চান, সরকার তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করুক। না হলে মাসিক ভাতা ও জীবনবিমার সংস্থান করে দিক।
পারফর্মিং ও ভিসুয়াল আর্টের সঙ্গে জড়িত একদল শিল্পী বিহারের মুখ্যসচিবের কাছে এই আবেদন জানিয়েছেন। পদ্মশ্রীতে সম্মানিত শ্যাম শর্মা বলেন, ‘বৃদ্ধ ও দরিদ্র শিল্পীদের কে দেখবে? তাঁদের জন্য মাসিক ভাতার প্রয়োজন। পাশাপাশি দরকার জীবনবিমা। সরকারের এ ব্যাপারে কিছু করা দরকার।’ শ্যাম কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফ্টস-এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ।
শিল্পী সমাজের বক্তব্য, খেলাধূলার কোটায় চাকরি হয়। তা হলে শিল্পীদেরও সেই সুযোগ দেওয়া হোক। এমনিতেই সরকারি সাহায্য অনিয়মিত। তা মূলত কোনও না কোনও পুরস্কারের মূত্রে পাওয়া যায়। সরকারি চাকরির মতো কোনও স্থায়ী নির্ভরতা তাঁদের নেই।
ইজেডসিসি-র প্রাক্তন সদস্য বীরেন্দ্র কুমার জানান, করোনা ও লকডাউনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই পর্বে আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তাঁর কথায়, ‘অনেক শিল্পীই সরকারি অনুষ্ঠানের উপরে নির্ভরশীল। যেমন সরকারি প্রদর্শনী, আর্ট ক্যাম্প, কর্মশালা। কিন্তু দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অতিমারী ও লকডাউনে তাঁদের যাবতীয় উপার্জন বন্ধ। অনেকে তাঁদের উৎপন্ন সামগ্রী সরকারের কাছে বিক্রি করেন। এঁদেরও আয়ের পথ প্রায় বন্ধ। এঁদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। আমরা চাই, সরকার পাশে দাঁড়াক।’
বিহারে (Bihar) ক্লাসিক্যাল শিল্পকে আরও সমর্থনের প্রয়োজন বলে মত কত্থক শিল্পী অঞ্জুলা ও রাজীবের। তাঁরা বলেন, ‘ভারতরত্ন বিসমিল্লা খান এখানকার মানুষ। অথচ তার পরেও শিল্প ও শিল্পীর জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা মেলে না।’
বিহারের (Bihar) মুখ্যসচিব ত্রিপুরারী শরণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সংবাদমাধ্যম। তবে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
তবে মুখ খুলেছেন রাজ্যের সংস্কৃতি মন্ত্রী অলোক রঞ্জন। তিনি জানান, একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যে জন্য শিল্পীদের কাজ আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সব ধরনের শিল্পই জমা দেওয়া যাবে। এর ভিত্তিতে দেওয়া হবে নগদ পুরস্কার। সোলো পারফর্মাররা পাবেন দেড় হাজার টাকা। আর কোনও দল হলে মিলবে তিন হাজার। সেরা শিল্পীকে দেওয়া হবে ১০ হাজার টাকা।
যদিও এতে কতখানি সুরাহা হবে, সে প্রশ্ন থাকছেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top