বার্থডে পার্টিতে কীসের ইঞ্জেকশন? হাতই বাদ গেল কিশোরের

Injection.jpg

প্রতীকী চিত্র

Onlooker desk: একটি জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিল বছর ১৭-র কিশোর। তার দিনকয়েকের মধ্যে বাদ গেল তার হাত। ছেলেটির মায়ের অভিযোগ, তাঁর ছেলের শরীরে বিষাক্ত কিছু প্রয়োগ করা হয়। তার জেরেই এই বিপর্যয়। ঘটনাটি বেঙ্গালুরুর।
ভদ্রমহিলা জানিয়েছেন, গত ৩১ মে ওই বার্থডে পার্টিতে গিয়েছিল ছেলে। জন্মদিন ছিল চামারাজপেট এলাকার এক ভলিবল কোচের। তিনি এই কিশোরের বন্ধু। পুলিশের কাছে মহিলার অভিযোগ, কিছু ট্যাবলেট গুঁড়ো করে জলে মিশিয়ে ইঞ্জেক্ট করা হয়েছিল ছেলের হাতে। আমন্ত্রণকারীর বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ তাঁর।
কিশোরের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ভলিবল কোচের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তাঁর নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৮ নম্বর ধারায় মামলা হয়েছে। অপরাধের উদ্দেশ্যে কাউকে বিষ দেওয়ার ধারা এটি।
লিখিত অভিযোগে কিশোরের মা জানান, দশম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে ছেলে। গত ৩১ মে জন্মদিনের পার্টিতে তাকে ডাকেন ওই ভলিবল কোচ। সে দিন রাত ৯টা নাগাদ চামারাজপেটে কোচের বাড়িতে যায় তাঁর ছেলে। ফেরে রাত ১১টায়।
কিন্তু তখন কিছু বোঝা যায়নি। সমস্যা শুরু হয় দিনচারেক বাদে।
ছেলেটির ডান হাতের কনুই ফুলে যেতে শুরু করে। ছেলেকে নিয়ে সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে যান মা। সেকানেই চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, ছেলের কনুইয়ে বিষাক্ত কিছু পাওয়া গিয়েছে। কনুই থেকে হাতে পচন ধরে যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, হাত বাদ দিতে হবে। সেই মতো কনুই থেকে ডান হাতটি বাদ গিয়েছে বছর ১৭-র ওই কিশোরের।
আচমকা এই সর্বনাশে দিশাহারা হয়ে পড়ে ছেলেটির পরিবার। ছেলের কাছে মহিলা জানতে চান, এটা কী ভাবে হলো। তখনই উঠে আসে ওই বার্থডে পার্টির প্রসঙ্গ।মাকে ওই কিশোর জানায়, ভলিবল কোচ কিছু ট্যাবলেট গুঁড়ো করে। সেটাই জলে মিশিয়ে তার ডান হাতে ইঞ্জেক্ট করে। পুলিশকে এর পুরোটাই জানিয়েছেন মহিলা।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ছেলেটির শরীরে কী ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য পাওয়া গিয়েছে, তার রিপোর্ট চিকিৎসকদের কাছে চেয়েছেন তদন্তকারীরা। রিপোর্ট পেলে কোর্টের দ্বারস্থ হবে পুলিশ। যাতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি মেলে। অভিযুক্ত আপাতত শ্রীঘরেই। তাঁর বিরুদ্ধে গাড়ি চুরির অভিযোগ।
বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও নেশা বা আসক্তির পথ থেকে সরে আসতে পারছে না তরুণ প্রজন্মের একাংশ। বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা তারই প্রমাণ বলে অনেকের মত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top