অভিযুক্ত ‘পিটার প্যান সিন্ড্রোমে’ আক্রান্ত, জামিন যৌন নিগ্রহে অভিযুক্তের

IMG-20210623-WA0003.jpg

Onlooker desk: ১৪ বছরের একটি মেয়েকে অপহরণ করে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু বছর তেইশের অভিযুক্তকে জামিন দিল মুম্বইয়ের একটি আদালত। কারণ তিনি ‘পিটার প্যান সিন্ড্রোমে’ আক্রান্ত। বেশ কিছু শর্ত মানার পাশাপাশি অভিযুক্তকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
কী এই পিটার প্যান সিন্ড্রোম? সেই ছোটবেলায় পড়া পিটার প্যানের নাটকের সঙ্গে এর যোগ। স্কটিশ সাহিত্যিক জে এম ব্যারির ওই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র পিটার কোনওদিন বড় হয় না। দুষ্টু ছেলে উড়ে বেড়ায় আর ছেলেমানুষি করে। আইল্যান্ড অফ নেভারল্যান্ডে তার বাস। এই কখনও বড় না-হওয়ার সমস্যাই পিটার প্যান সিন্ড্রোম। তারা কোনওদিন বড়দের উপযুক্ত দায়িত্বও নিয়ে পারে না। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর মানসিক অসুস্থতার তালিকায় এই সমস্যার ঠাঁই নেই।
অভিযুক্তের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে কোর্টে তাঁর মক্কেলের অসুস্থতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘অভিযোগকারিণীর পরিবার দু’জনের সম্পর্কের কথা জানত। কিন্তু ছেলেটির আর্থিক পরিস্থিতি ও অসুস্থতার জন্য মেনে নেয়নি। ছেলের পরিবারের বিরুদ্ধেও তাঁদের ক্ষোভ।’ তাঁর দাবি, মেয়েটি সব জানত। সে স্বেচ্ছায় ওই তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে।
যদিও স্পেশ্যাল পাবলিক প্রসিকিউটর বীণা শেলর দাবি করেন, এ সবই অসত্য। তাঁর দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সব প্রমাণই রয়েছে। তিনি জানান, ছেলেটির অসুস্থতার কোনও প্রমাণ নেই। জামিনে ছাড়া হলে তিনি মামলার প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন।
দু’পক্ষের সওয়াল শুনে আদালত অবশ্য অভিযুক্তকে জামিন দেন। তাঁর যুক্তি, তদন্ত শেষ। এরপরে অভিযুক্তে আটকে রাখার কোনও মানে হয় না। কোর্টের প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে, মেয়েটি স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে অভিযুক্তের সঙ্গে গিয়েছিল। সে সবই জানত।
পিটার প্যান সিন্ড্রোম নামটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন ডঃ ড্যান কাইলি। তাঁর ১৯৮৩-র বই ‘পিটার প্যান সিন্ড্রোম: মেন হু হ্যাভ নেভার গ্রোন আপ’-এ। মার্কিন ওয়েবসাইট এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার হেল্থলাইনে এর উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক হলেও মানসিক ও আর্থিক দায়িত্ব নিতে অনেকেই অপারগ হয়। তারাই এই অসুখে আক্রান্ত।
তবে হু একে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্যাল ম্যানুয়াল অফ মেন্টার ডিজঅর্ডার্স-এ তার উল্লেখ নেই। তবে এর জেরে আক্রান্তের সম্পর্ক ও জীবনের মানে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top