বিহারে অভূতপূর্ব সঙ্কটে চিরাগ পাসোয়ান, নেপথ্যের ঘটনা জানেন? চেনেন কুশীলবদের?

Chirag-Paswan-in-turmoil.jpg

Onlooker desk: দলের বাকি সাংসদদের সকলে তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন। সোমবার কার্যত একা হয়ে গিয়েছেন লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) নেতা চিরাগ পাসোয়ান (Chirag Paswan)। এবং এই অভ্যুত্থানের পিছনে মূল ভূমিকা তাঁর কাকা পশুপতি কুমার পরশের। চিরাগকে নিয়ে লোকসভায় দলের মোট ছ’জন সাংসদ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই তাঁকে নেতা বলে মানতে অস্বীকার করেছেন। পরিস্থিতি যে দিকে গিয়েছে, তাতে লোকসভায় নেতৃত্ব তো হারিয়েইছেন। পার্টির জাতীয় নেতার পদও হারাতে পারেন। গত বছর অক্টোবরে বাবা, এলজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা রামবিলাস পাসোয়ানের মৃত্যুর পর ই দায়িত্বগুলি পেয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু এই অভ্যুত্থানের পিছনে আসল কারণটা কী?
সূত্রের খবর, প্রয়াত রামবিলাস পাসোয়ানের ভাই পরশ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও বিজেপির মদতে মাসখানেক ধরে এই আন্দোলনের বীজতলা তৈরি করেছেন। চিরাগকে (Chirag Paswan) একঘরে করে দেওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতিই সেরেছেন পরশ। সোমবার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন চিরাগ। নিজের গাড়ি চালিয়ে কাকার বাড়িতে যান। কিন্তু পৌনে দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরেও তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি পরশ। তাঁর ছেলে, অন্যতম বিক্ষুব্ধ তথা চিরাগের খুড়তুতো ভাই প্রিন্স রাজও ওই বাড়িতে থাকেন। কিন্তু তিনিও দেখা করেননি দাদার সঙ্গে। চিরাগ চেয়েছিলেন তাঁর জায়গায় মা রীনাকে পার্টির প্রেসিডেন্ট করা হোক। যদিও সেই প্রস্তাবে কান দেননি বিক্ষুব্ধ নেতারা। সোমবার সন্ধ্যাতেই চিরাগকে সরিয়ে পরশকে লোকসভায় পার্টির নেতা করার পক্ষে ভোট দেন তাঁরা। স্পিকার ওম বিড়লা তাতে রাজি হন এবং রাতারাতি বদলে যান লোকসভায় এলজেপি-র দলনেতা। পরে পরশ বলেন, ‘আমি পার্টি ভাঙিনি। চিরাগ পাসোয়ান (Chirag Paswan) আমার ভাইপো। তিনি দলের জাতীয় সভাপতি। ওঁকে নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই।’
২০১৯-এর নির্বাচনে জিতে প্রথম সাংসদ হয়েছেন পরশ। প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাসের প্রচারবিমুখ ডান হাত হিসাবেই বরাবর পরিচিত থেকেছেন তিনি। কিন্তু দাদার মৃত্যুর পরপরই ভাইপোর সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ প্রকাশ্যে আসে। বিহারের নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ থেকে বেরিয়ে নীতীশের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে কোনওদিনই রাজি ছিলেন না পরশ। কিন্তু চিরাগ ঠিক সেটাই করেছিলেন। রাজ্যের ২৪৩টি আসনের মধ্যে মাত্র একটিতে জিততে পারলেও নীতীশের দল জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) ফলে ব্যাপক ক্ষতিসাধনে সফল হন চিরাগ। বস্তুত একদিকে এনডিএ, অন্যদিকে আরজেডি-কংগ্রেসের মহাজোটের বিরুদ্ধে একা এলজেপি যে জিততে পারবে না, সেটা কারও অজানা ছিল না। কিন্তু চিরাগ যেটা চেয়েছিলেন, জেডিইউ-কে সেই ধাক্কাটা দিতে পেরেছিলেন। এলজেপি ভোটকাটুয়ার ভূমিকা নেওয়ায় সে বার অন্তত ৩২টি আসন হাতছাড়া হয় বলে জেডিইউ নেতারা মনে করেন। এতে এনডিএ-তে তাঁর দলের গুরুত্ব কমে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসাবে উঠে আসে বিজেপি।
চিরাগের (Chirag Paswan) এই ভূমিকা যে তিনি ভালো ভাবে নেননি, নীতীশ তখনই সেটা পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন। এ দিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করছেন বলে খবর। সেখানে রামবিলাসের জায়গায় তাঁর পুত্র ‘ন্যাচারাল চয়েস’ হিসাবে জায়গা পাবেন বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু মন্ত্রিসভায় জায়গা চাই জেডিইউয়ের। সেই পথে ‘কাঁটা’ চিরাগকে যে ভাবে হোক সরাতে হবে। সেই লক্ষ্যে জেডিইউ নেতা লল্লন সিং এবং বিজেপির রাজ্যসভার এক সাংসদ এলজেপি সাংসদ, বিশেষত পরশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তাঁকে বলা হয়, চিরাগকে বাদ দেওয়া গেলে বিহারে এনডিএ-তে জায়গা তো হবেই, কেন্দ্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাবেন। এ বার পরশ লোকসভায় এলজেপির দলনেতা হওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁর জায়গা অনেকখানি পাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top