পাওয়ারের বাড়িতে ‘অরাজনৈতিক’ বৈঠকে নীলোৎপল বসু থেকে জাভেদ আখতার

IMG-20210623-WA0004.jpg

Onlooker desk: তৃণমূল কংগ্রেস, আপ, বাম-সহ আটটি বিরোধী দলকে নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক হলো এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের বাড়িতে। আমন্ত্রিত না-হওয়ায় কংগ্রেস ছিল অনুপস্থিত। ২০২৪-এর আগে তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরির উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক বলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়।
যদিও এই বৈঠক কোনও রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না বলে দাবি করা হয়। এনসিপি-র নেতা মাজিদ মেমন বলেন, ‘বৈঠকটি শরদ পাওয়ার ডাকেননি। ডেকেছিলেন যশবন্ত সিনহা। এটা কোনও রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না।’ অন্যদিকে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বর্তমানে তৃণমূল নেতা যশবন্ত জানান, সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে এই আলোচনা।
মাজিদ মেমন আজ বলেন, ‘অনেকেই বলছেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার জন্য এই বৈঠক। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। কোনও বিভেদ নেই। আমরা সমমনস্ক মানুষদের ডেকেছিলাম। কংগ্রেস নেতারাও আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। বিবেক তানহা, মণীশ তিওয়ারি, অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, শত্রুঘ্ন সিনহাকে ডেকেছিলাম। কিন্তু তাঁরা আসতে পারেননি। আমরা কংগ্রেসকে ডাকিনি, এ কথাটা ঠিক নয়।’
তা হলে কারা ছিলেন এই বৈঠকে? ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ, আরএলডি-র জয়ন্ত চৌধুরি, সমাজবাদী পার্টির ঘনশ্যাম তিওয়ারি, আপ নেতা সুশীল গুপ্তা, সিপিআইয়ের বিনয় বিশ্বম, সিপিএমের নীলোৎপল বসুরা উপস্থিত ছিলেন। নীলোৎপল পরে বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক বৈঠক ছিল না। সমমনস্ক মানুষদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কোভিড ম্যানেজমেন্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ, বেকারত্ব ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছি আমরা।’
রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরেও অনেকে উপস্থিত ছিলেন এ দিন। যেমন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এপি শাহ, প্রাক্তন অ্যাম্বাসাডর কে সি সিং, গীতিকার জাভেদ আখতার। তবে প্রবীণ আইনজীবী কেটিএস তুলসি, কলিন গনজালভেস, প্রাক্তন চিফ ইলেকশন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশিরা আমন্ত্রিত হলেও বৈঠকে যোগ দেননি।
২০২৪-এ বিজেপি ও মোদীর বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার জন্যই এই বৈঠক বলে জোরালো জল্পনা ছিল সোমবার থেকে। বিশেষত পাওয়ারের মতো বিচক্ষণ, প্রবীণ রাজনীতিকের নাম এর সঙ্গে জড়ানোয় জল্পনার আগুনে ঘি পড়ে। কিন্তু যাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত, তাঁরা বারবারই বলছেন, আজকের বৈঠক ছিল অরাজনৈতিক। বরং যশবন্ত সিনহার সংগঠন রাষ্ট্রমঞ্চের আলোচনা বলা যায় একে। এনসিপি নেতা প্রফুল্ল প্যাটেল বলেন, ‘যশবন্ত সিনহা শরদ পাওয়ারকে বৈঠকটি ডাকতে বলেন। এটি আসলে রাষ্ট্রমঞ্চের আলোচনা। শরদ পাওয়ার বৈঠকটি ডাকেননি। অযথা জল্পনা হচ্ছে।’
বস্তুত, সোমবার বৈঠক আহ্বানের খানিকক্ষণ আগেই ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে আলোচনা সারেন পাওয়ার। যার জেরে রাজনীতির গন্ধ তীব্র হয়। যদিও পরে পিকে নিজেই জানান, তিনি তৃতীয় বা চতুর্থ ফ্রন্টে বিশ্বাস করেন না। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা বিশেষ কার্যকর হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top