পশ্চিমবঙ্গের আরও এক মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

Supreme-Court-of-India.jpg

সুপ্রিম কোর্ট

Onlooker desk: পশ্চিমবঙ্গের একটি মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন সুপ্রিম কোর্টের আরও এক বিচারপতি। বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু। তিনিও আদতে কলকাতার বাসিন্দা। নারদ মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বিচারপতি বসুর কথায়, ‘আমি এই মামলা শুনতে চাই না।’
অন্য বিচারতি হেমন্ত গুপ্ত তখন মামলাটি অন্য বেঞ্চে সরানোর জন্য আবেদন জানান। সুপ্রিম কোর্টে ওই আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিচারপতি বিনীত শরণের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আজ মামলাটি ওঠার কথা।
আগে একই ভাবে বাংলার একটি মামলা থেকে সরে গিয়েছেন বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়।গত ২ মে রাজ্যে ভোটের ফল ঘোষণা হয়। তাতে বিপুল জয় হয় তৃণমূলের।
তার পরেই নির্বাচন পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তৃণমূলের অত্যাচারে বিজেপির কর্মীরা ঘরছাড়া বলে অভিযোগ। দুই তৃণমূলকর্মীর মৃত্যু মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে। কিন্তু তিনি সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ওই মামলাও অন্য বেঞ্চে সরানোর আর্জি জানানো হয়।
নারদ মামলায় মমতা ও রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের হলফনামা নিতে অস্বীকার করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গিয়েছেন মমতা। রাজ্য সরকার চাপ দিচ্ছে। এই অভিযোগে নারদ মামলা পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরাতে চায় সিবিআই। হাইকোর্টে এই আর্জির শুনানি চলছে। হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী।
কিন্তু হাইকোর্ট তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। তাদের বক্তব্য, ঝুঁকির হিসাব করে যথাযথ সময়ে হলফনামা দায়ের করেননি এঁরা। এখন নিজেদের খেয়ালখুশি মতো তা করা যাবে না।
গত ১৭ মে নারদ মামলায় ধরা হয় তৃণমূলের তিন নেতা-বিধায়ককে। তারপরে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। মমতা নিজেও সে দিন সিবিআই (CBI) দপ্তরে হাজির হন। নেতাদের কোর্টে তোলার সময় আইনমন্ত্রী দলবল নিয়ে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও অভিযোগ। সিবিআইয়ের দাবি, এ ভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাই মামলাটি অন্য রাজ্যে সরানোর প্রসঙ্গ উঠছে।
সিবিআই সে দিন ধরেছিল মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম। বিধায়ক মদন মিত্র। এবং দলত্যাগী নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। জেল থেকে প্রথমে তাঁদের গৃহবন্দিত্বের নির্দেশ দেওয়া হয়। আপাতত জামিনে মুক্ত রয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি আপাতত কোর্টের বিবেচনাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top