আর নয় ফ্ল্যাশ সেল, ই-কমার্স নিয়ে কড়া রাস্তায় কেন্দ্র

images-2-1.jpeg

Onlooker desk: ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স সাইটকে কড়া নিয়মে বাঁধতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তাৎক্ষণিক সেল বা ফ্ল্যাশ সেল বন্ধ করার প্রস্তাব এনেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সোমবার এক হলফনামায় এ কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের অ্যাফিলিয়েটেড কোনও সংস্থাকে এই সব প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতা হিসাবে দেখানো যাবে না।
ই-কমার্স (e-commerce) সাইটগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ মূলত ছোট বিক্রেতাদের। বিদেশি এই সব সাইটে ব্যবসার কাঠামো জটিল। এবং তারা ভারতের আইন মানে না বলে অভিযোগ। তার পরেই বিবৃতির আকারে খসড়া আইন পেশ করে কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রক।
অ্যামাজন (Amazon) এবং ফ্লিপকার্ট অবশ্য জানিয়েছে, তারা ভারতের আইন মেনে চলে। অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা খসড়া আইনটি পড়ছে। তবে এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। আর এ প্রসঙ্গে ফ্লিপকার্টের (Flipkart) মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
নতুন খসড়ার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ফ্ল্যাশ সেলে নিষেধাজ্ঞা। ভারতে তা আর করা যাবে না। মূলত উৎসবের মরসুমে এই সেল ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। প্রচুর ডিসকাউন্টে জিনিসপত্র পাওয়া যায়। বহু মানুষ সেই সময়ে কেনাকাটা করেন। কিন্তু এতে অফলাইন ব্যবসা মার খায়। তারা অনলাইনের এই বিপুল ডিসকাউন্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে ওঠে না বলে অভিযোগ।
এ বাদে তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কেউ ই-কমার্স (e-commerce) সাইটে জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারবে না। এতে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠতে পারে। এ ছাড়া ক্রেতাদের ডেটা সুরক্ষিত রাখতেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে নতুন আইনে।
ভারতের বাজার ই-কমার্স সাইটগুলির জন্য অত্যন্ত লোভনীয়। এই বিশাল বাজারে অনলাইন কেনাকাটা ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। তার মধ্যে এত ধরনের বিধিনিষেধ, কড়াকড়ির জের ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের ব্যবসায় প্রভাব ফেলবে। ব্যবসায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি আইনজীবীরাও এ কথা বলছেন।
কেন? বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিক্রেতাকে বাড়তি সুযোগ দিয়ে থাকে এই সব সংস্থা। একটি সংবাদসংস্থার নিজস্ব তদন্তে ফেব্রুয়ারি মাসে অ্যামাজনের (Amazon) বিরুদ্ধে তেমন প্রমাণও মেলে বলে দাবি। অ্যামাজনের সাইটের দুই ‘টপ সেলার’-এর সঙ্গেই যুক্ত এই ই-কমার্স সাইট। তবে এই যোগ সরাসরি নয়। ঘুরপথে। তার পরেও সংস্থার অবশ্য দাবি, তারা কোনও পক্ষপাতিত্ব করে না।
অ্যামাজন এবং ফ্লিপকার্ট, দুই বিদেশি সংস্থা বিদেশি বিনিয়োগ আইনেও নিয়ন্ত্রিত। তবে নতুন আইন এলে বিদেশি বিনিয়োগ আইনের আওতায় এরা আর থাকবে কি না, তা পরিষ্কার নয়। সোমবার প্রকাশিত খসড়া আইন সম্পর্কে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত নেবে সরকার।
এক ই-কমার্স এগজিকিউটিভ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘নতুন আইন এলে ই-কমার্সের কাঠামোই বদলে যাবে। এটা উপভোক্তা বিষয়ক আইনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এটা আসলে ই-কমার্স (e-commerce) শিল্পের পলিসি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top