কাজ না করে কৃতিত্ব নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, তাতেই করোনার বাড়বাড়ন্ত: অমর্ত্য সেন

Amartya-Sen.jpg

Onlooker desk: কোভিড মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্র সেবা দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অমর্ত্য বলেন, ‘বিভ্রান্ত সরকার কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকানোর বদলে নিজেদের কাজের কৃতিত্ব নিতেই ব্যস্ত ছিল। যার জেরে দেখা দেওয়া স্কিজোফ্রেনিয়ায় (এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা) অসংখ্য মানুষ প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছেন।’ অথচ ওষুধ প্রস্তুতিতে ভারতের অবস্থা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো। মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও যথেষ্ট। তা সত্ত্বেও ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা যথাযথ নয় বলে সমালোচনায় সরব হলেন অমর্ত্য।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে এক এক দিনে চার লক্ষেরও বেশি মানুষ সংক্রামিত হয়েছেন। এমনকী সাড়ে চার হাজারের বেশি দৈনিক মৃত্যু দেখেছে ভারত। পাশাপাশি তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন বলে মনে করা হচ্ছে। সময়ের অনেক আগে ‘যুদ্ধজয়ের স্বস্তি’ই ভারতকে এই বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে বহু অভিজ্ঞ মানুষের মত। অমর্ত্য সরাসরি সে কথা না বলেলও অনেকখানি কাছ দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সরকারের বিব্রান্তির কারণে বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারত তার শক্তিশালী দিকগুলিকে ব্যবহার করতে পারেনি। সরকার যেন দেশে অতিমারী রোধ করার তুলনায় নিজেরা কী করেছে, সেটা তুলে ধরতেই অনেক বেশি আগ্রহী ছিল। যার জেরে একটা স্কিজোফ্রেনিয়া তৈরি হয়।’
এ প্রসঙ্গে আধুনিক অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথকে উদ্ধৃত করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও দর্শনের অধ্যাপক অমর্ত্য। স্মিথ বলেছিলেন — কেউ ভালো কাজ করলে তার কৃতিত্ব এমনিই পাবেন। কতটা ভালো কাজ হচ্ছে, তার সূচকই অনেক সময় সেই কৃতিত্বকে সংজ্ঞায়িত করে। সেই সঙ্গে অমর্ত্য বলেন, ‘কিন্তু কৃতিত্ব নেওয়ার মতো যথেষ্ট কাজ না করে তা দাবি করা বৌদ্ধিক অপরিপক্কতা বোঝায়, যাকে পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। অথচ ভারত সেটাই করার চেষ্টা করল। সরকার বিশ্বজুড়ে এমন একটা গর্বিত ভাব দেখাতে শুরু করল যেন গোটা দুনিয়াকে সম্ভবত এই দেশটাই বাঁচিয়ে দেবে। এ দিকে সেই সময়ে দেশে সমান্তরাল ভাবে বাড়তে থাকল সংক্রমণ এবং নাগরিকদের জীবনের টুঁটি টিপে ধরল।’
এমনিতেই সামাজিক বৈষম্য, উন্নয়নের শ্লথতা এবং বেকারত্বের হার দেশে রেকর্ড গডে়ছিল। অতিমারীর জেরে তা দুঃস্বপ্নের চেহারা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিদগ্ধ এই প্রবীণ। তাঁর কথায়, ‘সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতাই অতিমারী মোকাবিলায় ব্যর্থতার বীজ বপন করে।’ কারণ শিক্ষার অভাব অসুস্থতার উপসর্গ বুঝতে ও তার যথাযথ চিকিৎসার পথে অন্তরায় হয়েছে বলে মত অমর্ত্যর। সে জন্য আর্থ-সামাজিক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কাঠামোয় সামগ্রিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top