‘যাওয়ার আগে বললো, কিছু ঠিক নেই’, বছর ঘুরে ইরফান-স্মরণে স্ত্রী সুতপা

Polish_20210429_084034013.jpg

Onlooker desk: এক বছর! দেখতে দেখতে কেটেই গেল সময়। গোটা দুনিয়ার অসংখ্য ভক্ত, গুণগ্রাহীকে স্তব্ধ করে দিয়ে গত বছর এই দিনটায় না-ফেরার যাত্রা শুরু করেছিলেন ইরফান খান। সেই ঘটনার অভিঘাত এখনও মেলায়নি। এই এক বছর পরেও তা খুব বেশি।

এবং এই এক বছর ধরে শক্ত থাকার চেষ্টা, নিজেকে ব্যস্ত রাখার ছুতো, জনসমক্ষে চোখের জল না ফেলার বাস্তববাদিতা যে আদতে তাঁকে কতখানি কষ্ট দিয়েছে, সে কথাই সম্প্রতি জানালেন ইরফানের স্ত্রী, লেখক সুতপা শিকদার।

সেই ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামায় পড়াকালীন দুজনের আলাপ, প্রেম। এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি সুতপা জানিয়েছেন, এক বছর ধরে তৈরি করা নিজের সেই শক্ত খোলস সম্প্রতি ভেঙে পড়ে তাঁর।

গত মাসে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জয়পুর গিয়েছিলেন। ছেলে বাবিল আর আয়ান সঙ্গে ছিল না। সেই বিয়েবাড়িতে গিয়ে টানা ৭-৮ দিন ২৪ ঘণ্টাই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়েছে জল। কেন, কী জন্য, সে সব খুব ভালো করে বোঝেননি সুতপাও। বলেন, ‘হয়তো ছেলেরা কাছে ছিল না বলে। হয়তো ওখানে ও (ইরফান) খুব বেশি করে ছিল বলে। হয়তো নিজেকে শক্ত রাখার বড্ড বেশি চেষ্টা ছিল বলে। আমি নিজেকে আর সামলাতে পারিনি।’

দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্যান্সারে ভুগেছেন ইরফান। মৃত্যুর আগে হাসপাতালে ভর্তি শিল্পী ছেলে বাবিলকে হেসে বলেছিলেন, ‘এবার মরে যাবো।’ বাবার কথা সঙ্গে সঙ্গে খারিজ করেছিল ছেলে। মুচকি হেসে চোখ বন্ধ করে নিয়েছিলেন ইরফান।

তাঁর মৃত্যুর এক বছরে ঘুরেফিরে আসছে সে সব কথা। স্বামীর যে মৃত্যু এবং পরবর্তী জীবন নিয়ে কতখানি কৌতূহল ছিল, তা জানাচ্ছেন সুতপা। বলেন, ‘ওর আগ্রহেই আমার কুণ্ডলী তৈরি হয়। মৃত্যু নিয়ে যে কী কৌতূহল ছিল, বলে বোঝাতে পারবো না। শেষের দিকে একটা সময়ে মনে করতে শুরু করে যে মৃত্যুকে খুব কাছে নিয়ে এসেছে।’

যেদিন হাসপাতালে ভর্তি হন, সেদিন খুব দুর্বল। জামাকাপড় পরিয়ে চুল আঁচড়ে দিয়েছিলেন সুতপা। সেদিনের ঘটনার কথা মনে পড়ে তাঁর। বলেন, ‘ভাবলেশহীন মুখে আমাকে বললো, কিছু ঠিক নেই। আজও আমাদের বাড়ি এলে কেউ বুঝবেন না যে ও চিরতরে চলে গেছে। আজও আমি নানা সময়ে বুঝি, ও আছে। আমার আশপাশে ওকে উপলব্ধি করতে পারি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top