পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে পুলিশের জালে শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রা

Polish_20210720_015333601.jpg

Onlooker desk: পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রী শিলা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করল মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের প্রপার্টি সেল। রাজ নিজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ফেব্রুয়ারি মাসে একটি পর্নোগ্রাফি চক্রের পর্দা ফাঁস করে মুম্বই পুলিশ। সেই সূত্রেই রাজের গ্রেপ্তারি। এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মুম্বই পুলিশ এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করে সোমবার। সেখানে লেখা হয় — পর্নোগ্রাফি তৈরি ও কিছু অ্যাপের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মামলা দায়ের করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সেই চক্রের মূল চক্রী হিসাবে রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলায় আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে।
প্রপার্টি সেল এ দিন রাজকে ডেকে পাঠায়। তিনি রাত ৮টা নাগাদ তাদের অফিসে পৌঁছন। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রপার্টি সেল এর আগে উমেশ কামাত নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি কুন্দ্রার সংস্থায় কাজ করতেন বলে জানিয়েছিলেন।
পর্নোগ্রাফি চক্রের হদিস মেলার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি গহনা বশিষ্ঠ নামে এক মডেল-অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জেরা করে উঠে আসে উমেশের নাম। উমেশ ইংল্যান্ডের একটি সংস্থায় কো-অর্ডিনেটর হিসাবে কাজ করতেন। বশিষ্ঠের থেকে আপত্তিকর ভিডিয়ো সংগ্রহ করতেন। তারপরে ইংল্যান্ডের সেই সংস্থায় পাঠাতেন। পরে ‘হটশটস’ নামে একটি অ্যাপে সেগুলি আপলোড করা হত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি এই চক্রের পর্দা ফাঁস করে মুম্বই পুলিশ। প্রথমে তরুণ-তরুণীদের ওয়েব সিরিজ এবং শর্ট ফিল্মে কাজ দেওয়ার লোভ দেখানো হত। তারপরে তাঁদের পর্নোগ্রাফিতে অভিনয়ে বাধ্য করা হত। এই অভিযোগে ৪ ফেব্রুয়ারি মালাড (পশ্চিম)-এর মাধ এলাকা থেকে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জোর করে তোলা ছবি পরে মোবাইল অ্যাপ এবং অন্যান্য পর্ন সাইটে আপলোড করতেন অভিযুক্তরা। প্রথমে হানাদারি চালিয়ে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এঁরা হলেন রোয়া খান ওরফে ইয়াসমিন। তিনি নিজেকে প্রয়োজক-পরিচালক বলে দাবি করেছেন। ফটোগ্রাফারমনু শর্মা এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর প্রতিভা নালাওয়াড়ে। সঙ্গে ধরা পড়েন আরিস শেখ এবং ভালু ঠাকুর নামে দুই অভিনেতা।
এঁদের জেরা করে উঠে আসে গহনা বশিষ্ঠের নাম। মাধের ওই বাংলো থেকে শুটিংয়ে ব্যবহৃত ৫.৬৮ লক্ষ টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।
এই চক্রের সূত্রেই উঠে আসে রাজের নাম। রাজ অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই মামলায় আগাম জামিনের আবেদনও জানান তিনি। ২০১৩-য় ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিংয়ের অভিযোগেও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top