আশা জাগিয়েও দাগ কাটতে পারল না সলমনের ‘রাধে’

FFFE81D7-5CF7-456D-A0E3-F905028E4C6A.jpeg

ছবি: রাধে

পরিচালনা: প্রভু দেবা

অভিনয়: সলমন খান, দিশা পাটানি, জ্যাকি শ্রফ অন্যান্যরা

তমাল নাথ: ভাইজান একবারকমিটকরে দিলে নিজের কথাও আর শোনেন না। কিন্তু মহামারী যেতার সব হিসাব পল্টে দেবে, সেটা বাকিদের মতো ভাইজানও বুঝতে পারেননি। তাই গত বছর ঈদে মুক্তিরকথা থাকলেও সলমন খান অভিনীত প্রতীক্ষিত ছবিরাধেরিলিজ করল বছর ঈদে। তাআবার থিয়েটারের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে। হেন সময়ে সলমনের আরও একটিকমিটমেন্ট’ — সবটিকঠাক চললে পরবর্তী কালে থিয়েটারেও মুক্তি পাবেরাধে কিন্তু সে তো পরের কথা। এখন দেখা যাকছবিটা কেমন হলো

সলমনের ছবিসলমনময়হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। চিত্রনাট্যও সেই ভাবে তৈরি। রাণাওরফে রণবীর সিং ড্রাগ স্মাগলিং করতে দিল্লি থেকে মুম্বই এসে তার পসরা সাজিয়ে তোলে এবং আস্তেআস্তে গোটা মুম্বইয়ে ব্যবসা ছড়ায়। ড্রাগের নেশায় স্কুলকলেজের স্টুডেন্টরা অতলে তলিয়ে যেতে থাকে। গোটা মুম্বইয়ের পুলিশ ফোর্স তার নাগাল পায় না। শেষে তাকে বাগে আনতেস্পেশ্যালিষ্টপুলিশ রাধের আবির্ভাব ঘটে। যে নাকি তার দাবাং কার্যকলাপের জন্য এখন সাসপেনশনে আছে। এবংযথারীতি ফর্মুলা মেনে তার দ্বারা দুষ্টের দমন ভাই’-এর জয় হয়।

ছবি শুরুর প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রথমে ভিলেন রণবীর সিং, তারপর ম্যাট্রিক্স স্টাইলে কাচ ভেঙে রাধেওরফে সলমন খান, নায়িকা দিয়া ওরফে দিশা পাটানি এবং সিনিয়র পুলিশ অফিসার দিশা পাটানিরদাদা জাকি শ্রফের আগমন ঘটে যায়।

ছবিতে মালমশলার কোনও অভাব ছিল না। বলিউডি রীতি মেনে সলমানের প্রায় অর্ধবয়সি দিশারমোহময় উপস্থিতি একটুআধটু রোম্যান্স, সিটি মারাতালি দেওয়ার মতো সংলাপ যেখানে সলমনেরমুখে ঈদ মুবারক থেকে জয় হিন্দের উল্লেখ, জ্যাকির কমিক রিলিফ, চারটে গান, জ্যাকলিনফারনান্ডেজের আইটেম নম্বর থেকে প্রভু দেবার হিট ছবিওয়ান্টেডএর বিখ্যাত সংলাপকিচ্ছু বাদনেই। তবুরাধেমনে দাগ কাটা তো দূর, দর্শকের প্রত্যাশাও পূরণ করতে পারে না। যেন একগাদামশলা ঠেলে অখাদ্য একটা পদ তৈরির সামিল।

গানগুলোতে নাচা যায়, হুল্লোড় করা যায়। কিন্তু মনে থাকে না। অভিনয়েও তেমন বৈচিত্র নেই। তারসুযোগও বিশেষ নেই।

তবে সম্পাদনা ভালো। ছবির দৈর্ঘ্যও ডিজিটাল মাধ্যমের কথা ভেবে কম রাখা হয়েছে। একটার পরএকটা ঘটনা দ্রুততার সঙ্গে ঘটতে থাকে, ভাবার সময় দেওয়া হয় না। প্রচুর গোলাগুলি বর্ষণ, মুড়িমুড়কির মতো মানুষ মরা, বাইকগাড়ি উল্টেপাল্টে যাওয়া থেকে ছবির শেষে হেলিকপ্টার গুঁড়িয়ে পড়ামাঝে মাঝে মনে হয় কোনও ভিডিয়ো গেম চলছে। সলমনের আগের অনেক ছবির মতো এখানেফ্যামিলি ড্রামা স্থান পায়নি। ড্রাগের বিরুদ্দে লড়াইয়ের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবু মনে রাখারমতো একটিও আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়নি। শেষে বলা যায়, সলমনের ফ্যানেদের এই ছবি হতাশ করবেনা। তাঁরা ভাইজানকে পূর্ণমাত্রায় পাবেন। তাই হয়তো ছবির ট্যাগলাইনভাইকা কমিটমেন্ট, ঈদ মেএন্টারটেন্টমেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top