‘বিয়েই তো বৈধ নয়, বিচ্ছেদ কীসের!’ নতুন প্রশ্ন তুলে বিতর্কে নুসরাত, ‘বিচারাধীন’ বিষয়ে মুখ খুললেন না নিখিল

IMG-20210609-WA0014.jpg

Onlooker desk: অভিনেত্রী তথা তৃণমূল সাংসদ নুসরাত জাহানের (Nusrat Jahan) ব্যক্তিগত জীবন কত ক’দিন ধরেই শিরোনামে। মাসছয়েক হলো স্বামী নিখিল জৈনের থেকে আলাদা থাকছেন তিনি। অভিনেতা যশ দাশগুপ্তর সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে গুঞ্জন তুঙ্গে। তার উপর শোনা যাচ্ছে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে লেখেন — এ ভাবে কোনও সম্পর্ক ঝুলিয়ে না রেখে বিচ্ছেদ ঘটানোই ভালো। তা ছাড়া এক সম্পর্ক ভেঙে অন্য সম্পর্কে গেলেই যে জীবন খুব সুখের হয় না, তা-ও জানান তসলিমা।
এরই মধ্যে নতুন বিতর্কের অবতারণা করলেন নুসরাত (Nusrat Jahan)। বুধবার একটি বিবৃতি জারি করে তিনি জানিয়েছেন, নিখিল জৈনের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বৈধ নয়। কারণ ভারতে দু’জন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিয়ে হয় স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টে। তাঁদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। কাজেই ওই বিয়ে বেআইনি এবং অবৈধ। সে কারণে বিচ্ছেদেরও প্রশ্ন ওঠে না। বসিরহাটের সাংসদের কথায়, ‘আমাদের বিচ্ছেদ অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমি তা নিয়ে কথা বলিনি কারণ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলার ইচ্ছে আমার ছিল না।’
এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে নিখিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি বিচারাধীন। তাঁর কথায়, ‘আমি ওঁর কোনও মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কখনও কথা বলিনি, বলবও না। বিষয়টা কোর্টে বিচারাধীন। কোর্টের উপর আমার আস্থা রয়েছে।’
২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে জয়ের পরে তুরস্কের বোদ্রামে পেশায় ব্যবসায়ী নিখিলের (Nikhil Jain) সঙ্গে বিয়ে সারেন নুসরাত (Nusrat Jahan)।। কলকাতাতেও রিসেপশন পার্টির আয়োজন করেন দু’জনে। সেখানে আমন্ত্রিত হিসাবে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই রিসেপশন তুরস্কের বিবাহ আইন মেনে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাংসদ।
এ দিন জারি করা বিবৃতিতে বিয়ে অবৈধ বলে দাবি করলেও কোথাও নিখিলের নাম উল্লেখ করেননি নুসরাত। তবে তাঁর টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছেন। নিখিলের নাম এড়িয়ে নুসরাত লেখেন — একজন যিনি নিজেকে ধনী ও যাঁকে আমি ব্যবহার করেছি বলে দাবি করছেন, তিনি যখন তখন বেআইনি ভাবে আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়েছেন। এমনকী আমাদের বিচ্ছেদের পর রাত্রিবেলাও আমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং শীঘ্রই পুলিশে অভিযোগ জানাব। সেই ব্যক্তির অনুরোধেই আমার এবং আমার পরিবারের সকলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে ব্যাঙ্ককে তিনি কী নির্দেশ দিতেন, তা-ও আমাদের জানা ছিল না। আমাকে না জানিয়ে আমার বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে এখনও ব্যাঙ্কের সঙ্গে আমাকে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলতে হচ্ছে। প্রয়োজনে তার প্রমাণও দিতে পারি। তাঁর বাবা-মায়ের দেওয়া গয়নাও বেআইনি ভাবে দখল করে রাখা হয়েছে বলে তারকা-সাংসদের অভিযোগ।
এ সব কোনও বিষয়েই মুখ খুলতে রাজি হননি নিখিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top