করোনা কেড়ে নিল বাংলাদেশি গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীরকে

Fakir-Alamgir-no-more.jpg

সোশ্যাল মিডিয়ায় গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীরের (বাঁদিকে) সঙ্গে এই ছবিই পোস্ট করে স্মৃতিচারণ করেছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন

Onlooker desk: কোভিডে প্রয়াত হলেন বাংলাদেশি গণসঙ্গীতশিল্পী ফকির আলমগীর (Fakir Alamgir)। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছেন তাঁর। আলমগীরের (Fakir Alamgir) মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে আলমগীরকে স্মরণ করেছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজমের স্নাতকোত্তর ফকির আলমগীর (Fakir Alamgir) গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালিখিও করতেন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই হল — ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যাঁরা আছেন হৃদয়পটে’ ইত্যাদি।
আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব জানান, শুক্রবার রাত ১০ নাগাদ শিল্পীর হার্ট অ্যাটাক হয়। রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
দিনকয়েক ধরেই জ্বর ও খুসখুসে কাশি ভোগাচ্ছিল ফকির আলমগীরকে। চিকিৎসকের পরামর্শে কোভিড পরীক্ষায় তাঁর রিপোর্ট আসে পজিটিভ। এরপরে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ঢাকার গুলশানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু গত রবিবার রাতে তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৪৫-এ নেমে যায়। সেই থেকে আইসিইউ-তে ছিলেন তিনি।
১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্ম ফকির আলমগীরের।
ছয়ের দশক থেকে তাঁর সঙ্গীতচর্চা শুরু। গানের পাশাপাশি বাঁশিও বাজাতেন তিনি। ১৯৬৬-তে ছাত্র সংসদের সক্রিয় সদস্য থেকেছেন। পরে ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী ও গণশিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে ষাটের দশকে বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রামে গণসঙ্গীতের মাধ্যমে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন ফকির আলমগীর। দেশের সঙ্গীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ও তাঁর সময়ের কয়েকজন শিল্পী প্রথম শুরু করেন প্রথম বাংলা পপ ধারার গান।
ফকির আলমগীরের গাওয়া কয়েকটি বিখ্যাত গান — সান্তাহার জংশনে দেখা, বনমালি তুমি, মায়ের একধার দুধের দাম, ও জুলেখা ইত্যাদি। তাঁর গাওয়া ‘ও সখিনা গেছস কি না’ গানটি এখনও অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই গানটির সুরও তাঁর।
রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’, ‘শেরেবাংলা পদক’, ‘ভাসানী পদক’, ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অফ অনার’, ‘তর্কবাগীশ স্বর্ণপদক’, ‘জসীমউদ্দীন স্বর্ণপদক’, ‘কান্তকবি পদক’, ‘গণনাট্য পুরস্কার’। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মান, ‘ত্রিপুরা সংস্কৃতি সমন্বয় পুরস্কার’, ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড যুক্তরাষ্ট্র’, ‘জনসংযোগ সমিতি বিশেষ সম্মাননা’, ‘চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড বিশেষ সম্মাননা’ ও ‘বাংলা অ্যাকাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ’-এও সম্মানিত করা হয় তাঁকে।
ফকির আলমগীরকে স্মরণ করে তসলিমা লিখেছেন — এমন প্রাণচঞ্চল মানুষ সংসারে খুব একটা মেলে না। বয়স তাঁর হয়েছিল, কিন্তু রয়ে গিয়েছিলেন শিশুর মতো। গাইবার জন্য গান খুঁজতেন, নতুন গান। আমাকেও বলেছিলেন গান লিখতে।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top