দু’হাত নেই তো কী! থাই-এ টিকা নিলেন ঝাড়খণ্ডের গুলশন

Vaccine-in-thigh-in-Jharkhand.jpg

পা দিয়েই কম্পিউটার চালাচ্ছেন গুলশন

Onlooker desk: ঝাড়খণ্ডের গুলশন লোহারের দু’টি হাত নেই। কিন্তু তাতে তাঁর যাত্রা থেকে থাকেনি। কম্পিউটার শিখেছেন। পা দিয়েই কম্পিউটার চালান। তা হলে আর টিকা নিতে বাধা কোথায়?
মঙ্গলবার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা নিতে যান গুলশন। এ দিকে টিকা তো সাধারণত দেওয়া হয় হাতে। তা হলে কী করা যায়? পথ বাতলান গুলশনই। থাই-এর পেশিতে দেওয়া হোক ইঞ্জেকশন। সেখানেই টিকা দেওয়া হয়েছে তরুণকে। এখনও কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
দেশে বর্তমানে তিনটি টিকা দেওয়া হচ্ছে। সেগুলি হলো কোভ্যাক্সিন, কোভিশিল্ড ও স্পুটনিক ভি। সবই ইন্ট্রামাস্কুলার ভ্যাকসিন। তাই ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে পেশিতে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ঝামেলা থেকে মুক্তির উপায়ও খোঁজা হচ্ছে। সে জন্য কাজ চলছে একটি নাজাল ভ্যাকসিনের।
তবে কোভিডের টিকা হাতের ডেল্টয়েড পেশিতে নেওয়ার কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তেমনটাই বলেন। মাসলের টিস্যুতে থাকে ইমিউন সেল। যার মাধ্যমে লিম্ফ নোডে অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিজেন তৈরির নীল নকশা পৌঁছয়। এই লিম্ফ নোড রয়েছে বগলের ঠিক নীচে। যে কারণে ডেল্টয়েড মাসল থেকে টিকাকে বেশিদূর যেতে হয় না।
কিন্তু থাইয়ের ক্ষেত্রে টিকা কাজ করে একটু অন্য ভাবে। এ ক্ষেত্রে লিম্ফ নোড রয়েছে কুঁচকিতে। অ্যান্টিজেনের বার্তা পৌঁছয় সেইখানে। তবে থাইয়ে ইঞ্জেকশন নেওয়া হাতের তুলনায় বেশি ঝঞ্ঝাটের। তাই হাতেই দেওয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন।
গত সোমবার, ২১ তারিখ নতুন টিকানীতি শুরু হয়েছে দেশে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র ৭৫ শতাংশ টিকা কিনে নিচ্ছে উৎপাদনকারীর কাছ থেকে। সেগুলোই বিতরণ করা হচ্ছে রাজ্যগুলিকে। আর বাকি ২৫ শতাংশ কিনছে বেসরকারি হাসপাতাল। সরকারি সমস্ত কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। বেসরকারি হাসপাতালে সে জন্য দাম দিতে হবে। দর অবশ্য কেন্দ্র নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
সোমবার, প্রথম দিন দেশে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাকসিনেশন হয়। ৮৮ লক্ষ টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল সে দিন। কিন্তু মঙ্গলবারই তা ৩৫ লক্ষ কমে দাঁড়া ৫৩ লক্ষে।
দেশে ভ্যাকসিনেশনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে গত ১৬ জানুয়ারি। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে সূচনা হয়। তার পরে প্রথম সারির অন্য যোদ্ধারা টিকা পান। এর পরে শুরু হয় ৪৫ ঊর্ধ্বদের টিকাকরণ।
১ মে দেশে ১৮ ঊর্ধ্ব সকলের টিকাকরণ শুরুর কথা থাকলেও জোগানের অভাবে তা মুখ থুবড়ে পড়ে। তারপরে অবশ্য পরিস্থিতি অনেকখানি ভালো হয়েছে। কিন্তু মূলত গ্রামাঞ্চলে কিছু ক্ষেত্রে টিকায় আতঙ্ক, অনীহা থেকে গিয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে গুলশনের কেসটি অন্যতম উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top