‘রহস্যজনক’ লং কোভিড নিয়ে উদ্বিগ্ন হু। কী তার উপসর্গ? অসুস্থতায় করণীয় কী?

Delta-Plus.jpg

Onlooker desk: বিশ্বজুড়ে ২০ কোটি মানুষ এ পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু এখনও কতজন লং কোভিডে (Long Covid) আক্রান্ত, তার নিশ্চিত হিসাব নেই। এবং এ বিষয়টা চিন্তা বাড়াচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র (WHO)।
ভাইরাসমুক্ত হয়েও অনেকে এখনও তার পরবর্তী অসুস্থতায় কাবু। যদিও সঙ্কটজনক অধ্যায়টা পেরিয়ে গিয়েছে। তার পরেও লাগাতার অসুস্থতার ক্ষেত্রে রোগীকে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে হু। কোনও ধরনের গাফিলতির জায়গা এখানে নেই।
অতিমারীর সবচেয়ে রহস্যজনক পর্ব এই লং কোভিড (Long Covid)। বা কোভিড পরবর্তী অসুস্থতা। যা নিয়ে হু অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে জানান রাষ্ট্রপুঞ্জের হেলথ এজেন্সির কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল প্রধান মারিয়া ভান কারখোভ। হু (WHO) চাইছে, লং কোভিড যাতে ঠিকমতো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কারণ এই সমস্যা বাস্তবে ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে।
মারিয়া বলেন, ‘কোভিড পরবর্তী অসুস্থতা কতদিন থাকে আমরা সেটা জানি না। পোস্ট কোভিড উপসর্গগুলি কী, সেটাও বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ লং কোভিডের শিকার যাঁরা হচ্ছেন, তাঁদের উন্নততর পুনর্বাসনে উদ্যোগী হয়েছে হু (WHO)। তা ছাড়া এই উপসর্গগুলি বুঝতে এবং তা কী করে সারিয়ে তোলা যায়, তার পথ নির্ধারণে গবেষণা চালাচ্ছে হু।
বস্তুত, লং কোভিডের অসুস্থতা হিসাবে ২০০-রও বেশি উপসর্গের কথা জানা যাচ্ছে।
পোস্ট কোভিড পরিস্থিতি বা লং কোভিড (Long Covid) বুঝতে এ বছর ধারাবাহিক ভাবে সেমিনার আয়োজন করেছে হু। চিকিৎসক, গবেষকদের পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সরাসরি অভিজ্ঞতার কথা শোন হয়েছে আলোচনাগুলিতে।
কোভিডমুক্ত হলেও শ্বাসকষ্ট, অত্যধিক ক্লান্তি, কার্ডিয়াক ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যা ইত্যাদিতে ভুগছেন অনেকে। অথচ কোভিডের সঙ্কটজনক পর্বটি পেরিয়ে এসেছেন তাঁরা!
হু-এর লং কোভিড সংক্রান্ত দিকটি দেখছেন জেনেট ডায়াজ। তিনি সংস্থার ইমার্জেন্সি প্রোগ্র্যামের নেতৃত্বেও রয়েছেন। জেনেট জানাচ্ছেন, ২০০-র বেশি উপসর্গের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে লং কোভিডের (Long Covid)। তার মধ্যে রয়েছে বুকে ব্যথা, চুলকানি ও র‍্যাশ ইত্যাদি।
কেউ কেউ কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর একটানা প্রচণ্ড অসুস্থতায় ভুগতে থাকেন। কারও ক্ষেত্রে একবার রোগমুক্ত হয়ে সেরে উঠেও ফের শরীরে থাবা বসায় অসুখ। আবার কারও ক্ষেত্রে সঙ্কটজনক পর্বের ঠিক পরেই লং কোভিডের উপসর্গ শুরু হয়ে যায়।
সমস্যা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে খুব বেশি তথ্যও হাতে নেই। ২০১৯-এর শেষ ভাগে চিনে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেই সময় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই চলছে গবেষণা।
জেনেটের কথায়, ‘ভাইরাসমুক্ত হওয়ার পরেও কী থেকে অসুস্থতা দেখা দেয়, সেটা পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না। তবে কিছু ধারণা করা হচ্ছে। যেমন নিউরোলজিক্যাল সমস্যা, সংক্রমণের জেরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, শরীরের কিছু অঙ্গে ভাইরাস থেকে যাওয়া ইত্যাদি।
এমনিতেই পৃথিবীর নানা দেশে করোনার তৃতীয়, এমনকী চতুর্থ ঢেউ পর্যন্ত দেখা দিয়েছে। করোনায় কাবু অস্ট্রেলিয়া, চিন। ভারতে এখনও দ্বিতীয় ঢেউ পুরোপুরি অপসারিত হয়নি। তার আগেই তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৯৮২ জন। মারা গিয়েছেন ৫৩৩ জন। করোনামুক্ত হয়েছেন ৪১ হাজার ৭২৬ জন।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top