ধর্মীয় আবেগের চেয়ে জীবনের দাম বেশি: কানোয়ার যাত্রা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট

Supreme-Court-of-India.jpg

সুপ্রিম কোর্ট

Onlooker desk: রাজ্যে কানোয়ার যাত্রা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ কর যায় কি না, উত্তর প্রদেশকে তা বিবেচনা করে দেখতে বলল সুপ্রিম কোর্ট। সীমিত তীর্থযাত্রীকে যাত্রায় অনুমতি দিয়েছে উত্তর প্রদেশ।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যাত্রা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার পক্ষপাতী। রাজ্যে কানোয়ারিদের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে উত্তর প্রদেশ সরকারকে। এ নিয়ে ফের শুনানি আগামী সোমবার। ওই দিন রাজ্যের জবাব জানাতে হবে।
এ প্রসঙ্গে উঠে আসছে আর্টিকল ২১-এর প্রসঙ্গ। যেখানে বলা হয়েছে — ভারতের নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনের অধিকারই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ বাদে অন্য সব আবেগ — সেটা ধর্মীয় হলেও — মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘উদ্বেগজনক’ রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি করছে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। বেঞ্চের নেতৃত্বে রয়েচেন বিচারপতি আর এফ নরিম্যান। এই বেঞ্চই আর্টিকল ২১-এর ওই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে।
সামনেই কোভিড অতিমারীর তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। এর মধ্যে সীমিত তীর্থযাত্রী নিয়ে কানোয়ার যাত্রায় অনুমতি দিয়েছে উত্তর প্রদেশ সরকার। এর সমর্থনে যুক্তিও দেয় তারা। যার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ পুনর্বিবেচনার সুযোগ দেয়। বেঞ্চ বলে, ‘হয় আমরা কোনও নির্দেশ দেব। না হলে সশরীরে এই যাত্রা আয়োজনের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার একটা সুযোগ দেব আপনাদের।’
কোর্টে উত্তর প্রদেশ সরকার জানায়, এই যাত্রা একেবারেই নমো নমো করে আয়োজিত হবে। হাতেগোনা কয়েকজন যাত্রী এতে অংশ নিতে পারবেন। সলিসিটর জেনারেল জানান, ভক্তদের জন্য গঙ্গাজলের ব্যবস্থা করতে পারে রাজ্য।
এ বছর কানোয়ার যাত্রা নিয়ে এমনিতেই বিতর্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরাখণ্ড সরকার ইতিমধ্যে এই যাত্রা বাতিল করেছে। কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের সতর্কতা হিসাবেই এই সিদ্ধান্ত উত্তরাখণ্ডের। এই নিয়ে দ্বিতীয় বছর কানোয়ার যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
কিন্তু উত্তর প্রদেশ সরকার সে পথে হাঁটেনি। অল্প সংখ্যক তীর্থযাত্রী নিয়ে আগামী ২৫ জুলাই যাত্রা শুরুর অনুমতি দেয় প্রশাসন।
কানোয়ার যাত্রায় অংশ নেন মূলত শিবের ভক্তরা। কাঁধের বাঁকে কলসি ঝুলিয়ে নিয়ে খালি পায়ে হেঁটে গিয়ে গঙ্গার জল ভরা হয় কলসিতে। প্রধানত উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের গঙ্গা থেকেই নেওয়া হয় জল। তা নিয়ে বাড়ি ফেরেন ভক্তরা। পরে শিবের পুজোয় তা ব্যবহৃত হয়।
পশ্চিমবঙ্গে তারকেশ্বরে শিবলিঙ্গে জল ঢালতে যাওয়ার সঙ্গে এই যাত্রার কিছুটা মিল রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top