করোনা-মোকাবিলায় উত্তর প্রদেশের ভূমিকা অতুলনীয়, বারাণসীতে বললেন মোদী

WhatsApp-Image-2021-07-15-at-2.22.48-PM.jpeg

Onlooker desk: রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে গোটা দেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। অথচ সেই উত্তর প্রদেশেরই কোভিড-মোকাবিলার ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মোদীর কথায়, ‘উত্তর প্রদেশ যে ভাবে করোনার মোকাবিলা করেছে, তা নজিরবিহীন।’ আজ, বৃহস্পতিবার সকালে নিজের কেন্দ্র বারাণসীতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ঢেউ শীর্ষে থাকাকালীন উত্তর প্রদেশে দৈনিক সংক্রমণ ৩০ হাজারও পেরিয়েছে। প্রথম ঢেউয়ে রেকর্ড স্থাপন করে তা হয়েছিল ৭,০১৬। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘উত্তর প্রদেশ হার মানেনি। দক্ষতার সঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা এই রাজ্যের। কিন্তু যে ভাবে উত্তর প্রদেশ অতিমারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তা প্রশংসনীয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় উত্তর প্রদেশের ভূমিকা নজিরবিহীন, অতুলনীয়।’
যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রথম সারির যোদ্ধাদেরও প্রশংসা করেন মোদী। এই রাজ্যে দেশের মধ্যে সর্বাধিক টিকাকরণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
কো-উইন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশে এ পর্যন্ত ৩.৮৯ কোটি টিকা দেওয়া হয়েছে। গত মাসে অক্সফোর্ড ইকনমিক্স একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে দেখা গিয়েছে, অন্য ছোট রাজ্যগুলির তুলনায় টিকাকরণে উত্তর প্রদেশ অনেকখানি পিছিয়ে। এখনও ‘নিরাপদ’ জায়গায় পৌঁছতে পারেনি যোগীর রাজ্য। অর্থাৎ, রাজ্যের ৩০ শতাংশও টিকার দু’টি ডোজ পাননি।
কিন্তু মোদী বেজায় খুশি। তাঁর কথায়, ‘করোনাযোদ্ধাদের প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। যাঁরা এই কঠিন সময়ে সাহায্য করেছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ। উত্তর প্রদেশ দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টিকাকরণ সম্পন্ন করেছে। সকলের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিনই সরকারের লক্ষ্য। এবং সেই লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে।’
বুধবারই সুপ্রিম কোর্ট উত্তর প্রদেশের কানওয়ার যাত্রায় সবুজ সঙ্কেতের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেছে। ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজিত হলে যে করোনাভাইরাস আরও দ্রুত ছড়াবে, সে ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তাতে যোগী আদিত্যনাথ ও তাঁর প্রশাসনের প্রশংসা থেকে পিছপা হননি মোদী।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিভিন্ন শৈল শহর ও বাজারে মাস্ক ছাড়া বিপুল ভিড় দেখে তিনি যারপরনাই উদ্বিগ্ন। তার পরদিন সুপ্রিম কোর্ট বলে, কানওয়ার যাত্রায় উত্তর প্রদেশ সরকারের ছাড়পত্রে মানুষ বিভ্রান্ত। তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় যেখানে ভিড়ভাট্টা এড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে এমন অনুমতি কী ভাবে দেওয়া হয়? স্বাভাবিক ভাবেই এ প্রশ্ন ওঠে।
তা ছাড়া, যোগীর করোনা-মোকাবিলা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই ক্ষোভ রয়েছে। উত্তর প্রদেশের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা প্রকাশ্যেই এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। এঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লোকসভা সাংসদ সন্তোষ গাঙ্গোয়ার। উত্তর প্রদেশের বরেলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার পরেই সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা রদবদলে মন্ত্রিত্ব খুইয়েছেন সন্তোষ। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী।
তা ছাড়া চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং বিরোধী নেতারাও উত্তর প্রদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বহু সময়ে সরব হয়েছেন। মে-জুন মাসে রাজ্যে কোভিডে মৃতদের দেহ গঙ্গায় ভেসে আসতে দেখা যায়। নদীর চরে অগভীর গর্ত খুঁড়ে তা পুঁতে দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। যদিও উত্তর প্রদেশ সরকার দেহগুলি কোভিডে মৃতদের বলে মানতে চায়নি।
এখানেও শেষ নয়। রাজ্যে কোভিডে মৃতদের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে যোগী-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব দাবি করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ডিউটি করেছেন, এমন বহু শিক্ষকের মৃত্য হয়েছে করোনায়। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ১৬০০ শিক্ষক করোনায় মারা গিয়েছেন। এঁদের ৯০ শতাংশই নির্বাচনের ডিউটিতে গিয়েছিলেন বলে একটি শিক্ষক সংগঠনের দাবি। যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, মাত্র তিনজন কর্তব্যরত শিক্ষক করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
উত্তর প্রদেশে এ পর্যন্ত ১৭ লক্ষ কোভিড সংক্রমণের হদিস পাওয়া গিয়েছে। মারা গিয়েছেন ২২ হাজার ৭০৪ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top