আধঘণ্টায় ৫০ জন, ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর কঠোর নিয়ম এই পর্যটনস্থলে

WhatsApp-Image-2021-07-09-at-11.51.18-AM.jpeg

কেম্পটি ফলসের এমন ছবি ও ভিডিয়োই ভাইরাল হয়

Onlooker desk: ভাইরাল ভিডিয়োয় বৃহস্পতিবারই চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়েছিল।
করোনার চোখরাঙানি উপেক্ষা করে বহু বহু মানুষ স্নান করছেন মুসৌরির কেম্পটি ফলসে। মাস্ক তো দূর, ন্যূনতম দূরত্বটুকু নেই তাঁদের মধ্যে। তার পরদিন, শুক্রবারই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসল উত্তরাখণ্ড প্রশাসন।
আজ তারা জানিয়েছে, মুসৌরির কেম্পটি ফলসে ৫০ জনের বেশি পর্যটককে যেতে দেওয়া হবে না। তাঁরা বড়জোর ৩০ মিনিট সেখানে থাকতে পারবেন। আধঘণ্টা পর এয়ারহর্ন বাজিয়ে তাঁদের সতর্ক করা হবে। জেলাশাসক ইভা আশিস শ্রীবাস্তব বলেন, ‘পর্যটকদের উপরে নজর রাখতে একটি চেক পোস্ট তৈরি করা হবে।’
তবে বৃহস্পতিবার যে ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল, তা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। কারণ ভিডিয়োটির কোনও তারিখ উল্লেখ করা ছিল না। তাই সেটি নতুন, না পুরোনো কোনও ভিডিয়ো, সে ব্যাপারে প্রশ্ন রয়েছে।
দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। এখন সতর্কতা তৃতীয় ঢেউ নিয়ে। এবং মারণ ভাইরাসের পরবর্তী দফার আগে যতদূর সম্ভব মানুষের টিকাকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, টিকাকরণই তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলার একমাত্র পথ। হাতে সময় খুবই কম। অগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তৃতীয় ঢেউ চূড়ায় পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্তত স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট তা-ই জানাচ্ছে।
এ বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে কোভিড অনেকখানি কমে আসে। সাধারণ মানুষ তো বেশ আশ্বস্ত হয়েছিলেন। এমনকী প্রধানমন্ত্রী থেকে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বুক ঠুকে কোভিডের বিরুদ্ধে জয়ের ঘোষণা করে দেন।
মার্চের শেষ থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণের সংখ্যা। এপ্রিল-মে মাসে তা চরম আকার ধারণ করে। এক এক দিনে ৪ লক্ষেরও বেশি সংক্রমণের হদিস মিলেছে। দৈনিক মৃত্যু চার হাজার পেরিয়ে যায়। তার সঙ্গে প্রকট হয়ে ওঠে অক্সিজেন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, ওষুধপত্র ইত্যাদি সবকিছুর ঘাটতি।
এ নিয়ে ব্যাপক ভাবে মুখ পোড়ে সরকারের। প্রথম ঢেউয়ের পর দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে যে সরকারের কোনও প্রস্তুতি ছিল না, সেটাই প্রকট হয়েছে বলে আক্রমণ শানায় বিরোধীরা। পাশাপাশি টিকার অভাবে একের পর এক হাসপাতালে টিকাকরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পদ খুইয়েছেন আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দু’জনেই। অনেকেই বলছেন, এ ভাবে আদতে সরকারের বিরুদ্ধে সেই সমালোচনায় সিলমোহর দিলেন খোদ মোদীই।
মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের মোদী বলেছেন, এ বার আর কোনও গাফিলতি বা আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। তিনি জানান, অনেক দেশেই করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। ভাইরাসও ভোল বদলে চলেছে।
দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা কমার পর বিভিন্ন রাজ্য কড়াকড়ি শিথিল করছে। কেন্দ্রীয় সরকার আগেই আমজনতাকে সতর্ক করেছিল। পর্যটকরা যদি মাস্ক, দূরত্ববিধি শিকেয় তুলে ঘোরাঘুরি শুরু করেন, তা হলে বিপদ অনিবার্য। এ পর্যন্ত যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে, সেখান থেকেও পিছিয়ে আসতে হবে।
কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। কেবল বেড়াতে গিয়ে নয়, অনেক এলাকাতেই মাস্ক ছাড়া ভিড়ের সেই ছবি ফিরতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top