ছাড়পত্র পেয়ে দেশে চতুর্থ টিকা মডার্না, করোনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত সাহায্য আমেরিকার

Vaccination.jpg

প্রতীকী চিত্র

Onlooker desk: ভারতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র পেল চতুর্থ টিকা। আমেরিকায় তৈরি মডার্না। মুম্বইয়ের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা সিপলা এই টিকা আমদানি করতে পারবে। দেশে নিয়ন্ত্রিত ভাবে জরুরি ভিত্তিতে তা ব্যবহার করা যাবে।
এ পর্যন্ত ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন, সিরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড এবং রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ছাড়পত্র পেয়েছে ভারতে।
তবে মডার্না টিকা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত পরিকল্পনা হয়নি। কতদিনের মধ্যে ভারতে টিকাটির কত ডোজ পাওয়া যাবে, সেটা স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, সিপলা আপাতত ডোনেট করা ভ্যাকসিনে নজর দিচ্ছে। কমার্শিয়াল চুক্তি নিয়ে কাজ এখনও বাকি।
দেশে ব্যবহৃত চারটি টিকার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর মডার্নাই। স্পুটনিক (৯১%), কোভ্যাক্সিন (৭৭.৮%) ও কোভিশিল্ডের (৭৪%) তুলনায় মডার্নার কার্যকারিতা অনেক বেশি। তা ৯৪ শতাংশ।
মঙ্গলবার মডার্না ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেওয়ার কথা জানান কোভিড টাস্ক ফোর্সের প্রধান ভি কে পল। তিনি বলেন, ‘সিপলার মাধ্যমে মডার্না যে আবেদন করেছিল, তা গৃহীত হয়েছে। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই ভ্যাকসিন আমদানির পথ প্রশস্ত হলো। অন্যান্য ফর্ম্যালিটি শীঘ্রই হয়ে যাবে। জরুরি বিষয় হলো, তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
ফাইজার এবং মডার্না, উভয় টিকাই ইনডেমনিটি চেয়েছিল। অর্থাৎ টিকার কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তারা দায়ী থাকবে না। কিন্তু ভারত এখনও কোনও ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারককেই ইনডেমনিটি দেয়নি।
ভি কে পল জানিয়েছেন, ফাইজারের সঙ্গে সরকারের বেশ কয়েক দফা কথা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ তাদেরই করতে হবে। ফাইজারের সিইও অ্যালবার্ট বুরলা সম্প্রতি জানান, তাঁদের টিকা শীঘ্রই আসতে পারে ভারতে। টিকাটি অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্বে রয়েছে।
অন্যদিকে, কোভিড মোকাবিলায় ভারতকে ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত সাহায্য ঘোষণা করেছে আমেরিকা। এই অতিরিক্ত সাহায্যে টেস্টিং, অতিমারী সংক্রান্ত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, সময়মতো মেডিক্যাল রেফারেলএবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিষেবায় সাহায্য করবে।
বর্তমানে ভারতে মার্কিন সাহায্য ২০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এ কথা জানিয়েছে। অতিরিক্ত ৫০০ মিলিয়ন ডলার রয়েছে ইমার্জেন্সি সাপ্লাই এবং প্রশিক্ষণে। এর ফলে দেশের ৪ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
গত বছর আমেরিকায় করোনার বাড়াবাড়ি ছিল মারাত্মক। সেই সময়ে ভারতে আমেরিকার পাশে দাঁড়ায়। তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল ভারত। সে কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভারতকে সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top