দৈনিক সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, বাড়ছে আর ভ্যালুও, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা

corona-test.jpg

Onlooker desk: সংক্রামিত ব্যক্তির থেকে করোনা ছড়ানোর হার বা আর ভ্যালু (R Value) ক্রমশ বাড়ছে দেশে। তৃতীয় ঢেউয়ের ভয়ের মধ্যে সংবাদমাধ্যমে নতুন করে এই আশঙ্কার কথা শোনালেন এইমস (AIIMS) প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া (Randeep Guleria)।
শনিবারের চেয়ে সামান্য বেড়ে রবিবার গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪১ হাজার ৮৩১টি নতুন করোনা (coronavirus) সংক্রমণের হদিস মিলেছে। সেরে উঠেছেন ৩৯ হাজার ২৫৮ জন। মারা গিয়েছেন ৫৪১ জন।
দিনকয়েক আগে দৈনিক সংক্রমণ ৩০ হাজারের নীচে নামলেও এখন তা ফের ৪০ হাজারের উপরে উঠে গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে গুলেরিয়া (Randeep Guleria) বলেন, ‘০.৯৬ থেকে আর ভ্যালু (R Value) ১-এ পৌঁছে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের। দেশে যে সব এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে, সেখানে কড়াকড়ি, টেস্টিং, ট্র্যাকিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।’
আমেরিকার সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, করোনার (coronavirus) অন্য সব ভ্যারিয়ান্টের তুলনায় ডেল্টা অনেক বেশি অসুস্থ করে তুলতে পারে। চিকেন পক্সের মতো দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা ডেল্টার।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে গুলেরিয়া বলেন, ‘হাম বা চিকেন পক্সের আর ফ্যাক্টর (R Value) ৮ কিংবা তারও বেশি থাকে। তার মানে একজন সংক্রামিত আটজনকে সংক্রামিত করতে পারে। ডেল্টার সংক্রমণ ক্ষমতা বোঝাতে এই উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। এটা আমরা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে দেখেছি। কারণ এক একটি পরিবারের সকলেই সংক্রামিত হয়েছেন। চিকেন পক্সের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়।’ এই সূত্রেই আর ভ্যালু (R Value) নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গ উঠে আসছে।
দেশে নতুন করোনা (coronavirus) সংক্রমণের ৫০ শতাংশই কেরালায়। অথচ অতিমারীর গোড়ার দিকে কেরালা ভাইরাস সংক্রমণে লাগাম পরিয়ে কার্যত নজির গড়েছিল দক্ষিণী এই রাজ্য। তাদের টিকাকরণের হারও ভালো। তারপরেও কেন সেখানে এই হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তা বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার বলে মনে করেন গুলেরিয়া (Randeep Guleria)। তিনি বলেন, ‘দেখতে হবে, এর পিছনে কি করোনার (coronavirus) অন্য কোনও প্রজাতির কলকাঠি রয়েছে?’
সংক্রমণে রাশ টানতে আরও বেশি টেস্টিং প্রয়োজন। শুধু কেরালায় নয়। প্রতিবেশী কর্নাটক ও তামিলনাড়ুতেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করেন গুলেরিয়া।
তামিলনাড়ুতে ৬৬ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সেরো সার্ভেতে এই তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু তার পরেও রাজ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। এর সঙ্গে হার্ড ইমিউনিটির যোগ না থাকলেও গুরুতর অসুস্থতার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যে কারণে কেরালা বা ইংল্যান্ডে সংক্রমণ ছড়ালেওতা গুরুতর আকার নিচ্ছে না। তবে এখন গুরুতর আকার নিচ্ছে না বলে কোনও দিনই নেবে না, তেমনটা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ অ্যান্টিবডির প্রভাব ক্রমশ কমতে থাকে। তাই কোথায় এর শেষ, বিশেষজ্ঞরাও সে প্রশ্নের উত্তর হাতড়াচ্ছেন।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top