ডেল্টা প্লাসে প্রথম মৃত্যু মধ্য প্রদেশে, পশ্চিমবঙ্গে মায়েদের টিকায় জোর

coronavirus.jpg

Onlooker desk: ডেল্টা প্লাস স্ট্রেনে দেশে প্রথম মৃত্যুর খবর মিলল মধ্য প্রদেশে। বুধবার এই মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
এমনিতেই নতুন করে চিন্তার কারণ হয়েছে করোনার এই নতুন স্ট্রেন। ডেল্টা প্লাসেই দেশে তৃতীয় ঢেউ আসবে বলে আশঙ্কা। বুধবার জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত ৪০টি সংক্রমণের হদিস মিলেছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এর কোনও ভিত্তি এখনও নেই।
মধ্য প্রদেশের উজ্জ্বয়িনীতে মৃতার নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিং হয়। হদিস মেলে, নভেল করোনাভাইরাসের ডেল্টা প্লাস স্ট্রেনের।
মধ্য প্রদেশে এ পর্যন্ত ডেল্টা প্লাসের পাঁচটি কেসের হদিস পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে তিনটি ভোপালে, দু’টি উজ্জ্বয়িনীতে। এই মৃতাকে বাদ দিলে অবশ্য বাকিরা সেরে উঠেছেন। এঁদের সকলেই ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন।
গত ২৩ মে মারা যান ওই মহিলা। উজ্জ্বয়িনীর নোডাল কোভিড অফিসার ডঃ রৌনক এ কথা জানান। মহিলার স্বামীর প্রথমে করোনা হয়। স্বামী টিকার দু’টি ডোজই নিয়েছিলেন। কিন্তু মৃতার টিকা নেওয়া ছিল না।
সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। মধ্য প্রদেশের মেডিক্যাল এডুকেশন মিনিস্টার বিশ্বাস সারং জানান, কনট্যাক্ট ট্রেসিং চলছে। যাঁদের শরীরে ডেল্টা প্লাসের হদিস মিলেছে, তাঁরা কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা দেখা হচ্ছে। তবে সংস্পর্শে আসা সকলেই নেগেটিভ বলে সারং জানান।
তিনি বলেন, ‘তবে সব হাসপাতালকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। টেস্টিং ও জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের বহর বাড়ানো হয়েছে। যাতে সংক্রমণের হদিস পেতে দেরি না হয়।’ মন্ত্রীর সংযোজন, ‘যাঁদের শরীরে ডেল্টা প্লাসের হদিস মিলেছে, তাঁরা টিকা নিয়েছিলেন। এখন সুস্থ রয়েছেন। কিন্তু যিনি টিকা নেননি, তিনিই মারা গেলেন। সে কারণে আমরা সকলকে টিকা নিতে বলছি।’
বৃহস্পতিবার নতুন করে ৫৪ হাজার ৬৯টি সংক্রমণের খোঁজ মিলেছে দেশে। বুধবারের তুলনায় যা ১,৩২১টি বেশি। মারা গিয়েছেন ১,৩৫৮ জন। পজিটিভিটি রেট ২.৯১ শতাংশ। দেশে এখন সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের হদিস মিলছে কেরালায়। বুধবার কেরালায় নতুন করে সংক্রামিত হয়েছেন ১২,৭৮৭ জন। তার পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র (১০,০৬৬)।
এ দিকে, আসন্ন তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হতে পারে বলে খবর। এর উল্টো মতও অবশ্য রয়েছে। কিন্তু তারপরেও কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার এ কথা জানান। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত যে মহিলাদের সন্তান রয়েছে, তাঁদের টিকাকরণে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে অন্তত ৪ লক্ষের দৈনিক টিকাকরণ শুরুর কথাও ঘোষণা করেন মমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top