ভয়াবহ সংক্রমণেও শিক্ষা হয়নি, দিল্লি ফিরেছে দিল্লিতেই

Delhi-covid-19.jpg

Onlooker desk: এপ্রিল-মে মাসে ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরে কোভিড-১৯ (Covid 19) এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় ধীরে ধীরে বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। কিন্তু দিল্লিতে (Delhi) বিভিন্ন এলাকায় যেরকম ভিড় হচ্ছে তাতে সংক্রমণ ফের বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।
সরকার প্রায় প্রতিদিনই করোনা-বিধি মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক করছে মানষকে। কিন্তু তাতে বিশেষ হেলদোল দেখা যাচ্ছে না।
বাজার, মল, বাস, মেট্রো, ফুড কোর্ট থেকে ধাবা — সর্বত্র উপচে পড়া ভিড়। সঙ্গে যথাযথ ভাবে মাস্ক পরায় অনীহা প্রকট। প্রশাসনের বক্তব্য, বিধি বলবৎ করতে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কেউ উপস্থিত না থাকলে করোনা-বিধি শিকেয় তুলে কোভিড পূর্ববর্তী সময়ে ফিরে যাচ্ছেন মানুষ। অথচ দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলির একটি ছিল দিল্লি।
প্রধান বাজারগুলি:
সামনেই স্বাধীনতা দিবস। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি ব্যস্ত এলাকায় নজর রাখছে যাতে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় না হয়। দিল্লি (Delhi) পুলিশের বিট কনস্টেবলদের মাঝেমাঝেই দেখা যাচ্ছে টহল দিতে। দিল্লি সরকার, জেলা প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার এবং বিভিন্ন পুরসভার তরফেও চলছে নজরদারি।
তার পরেও সরোজিনী নগর, লাজপত নগর, চাঁদনি চক, চৌরি বাজার, করোল বাগ, নেহরু প্লেস এবং সদর বাজারের মতো জনবহুল অঞ্চলে বাড়াবাড়ি ধরনের ভিড় হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে। একটি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোভিড-বিধি ভাঙাই এ সব এলাকার ‘বিধি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূলত বেলা ১২টা থেকে বাড়ছে ভিড়। সন্ধ্যায় গিজগিজ করছে এলাকাগুলি। ক্রেতা বা বিক্রেতা, কারও হুঁশ নেই। কোভিড (Covid 19) যে এখনও পুরোদমে রয়েছে, দেখে বোঝার উপায় নেই সে কথাও।
অথচ লক্ষ্মী নগর, লাজপত নগর, সরোজিনী নগর, নাংলোইয়ের মতো বাজারে কোভিড-বিধি (Covid 19) ভাঙার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরোজিনী নগরের বাজার সংগঠনের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘দোকানগুলির ভিতরে দূরত্ব বজায় রাখতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু দোকানের বাইরের পরিস্থিতি আমাদের হাতে নেই। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটাও আমাদের দেখতে হবে। আবার, ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রাখতে বা মাস্ক পরতে বললে তারা বলে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। দোকান থেকে বেরিয়ে যায়।’ রাস্তায় বসে যাঁরা হকারি করেন, ভিড়ের পিছনে তাঁদের দায়ী করেছেন ওই কর্তা।
একই পরিস্থিতি চাঁদনি চক, সদর বাজার-সহ অন্যান্য এলাকায়।
গণপরিবহণ:
গত ২৫ জুলাই দিল্লি (Delhi) সরকার মেট্রো ও বাসে ১০০ শতাংশ যাত্রী তোলার অনুমতি দেয়। তবে কেউ দাঁড়িয়ে যেতে পারবে না। এ ক্ষেত্রেও নিয়ম ভাঙাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রেন এবং বাস, উভয় পরিবহণেই যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। টিকিট কাটার লাইনেও গাদাগাদি ভিড়। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন সূত্রের খবর, পিক টাইমে এক একটি স্টেশনে ২ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।
অন্যদিকে, দিল্লির (Delhi) ত্রিলোক্যপুরী, কাশ্মীর গেট, শাহদারা, বদরপুর, নিউ সীমাপুরী, নাংলোই, দ্বারকা মোড়, নাজাফগড়ে বাসের সংখ্যা তুলনায় অনেক কম। সে কারণে বাসগুলিতে প্রবল ভিড় হচ্ছে। বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলছেন যাত্রী থেকে বাস কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা। গত সপ্তাহেই বদরপুরে এক বাস কন্ডাক্টর ও চালককে গণপ্রহারের শিকার হতে হয়। কারণ তাঁরা কোভিডের (Covid 19) ভয়ে যাত্রীদের উঠতে বাধা দিয়েছিলেন।
শাস্তির মুখে:
গত ১৯ এপ্রিল থেকে ৪ অগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৭২৬ জনকে মাস্ক না-পরার জন্য শাস্তির মুখে পড়তে হয়। এর সঙ্গে দূরত্ববিধি না-মানা, জনসমাগম, থুতু ফেলা ইত্যাদি কারণে প্রায় দু’লক্ষ চালান কেটেছে দিল্লি (Delhi) পুলিশ।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top