ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টে ৬৫ শতাংশ, করোনায় সামগ্রিক ভাবে ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকর কোভ্যাক্সিন

covaxin.jpg

Onlooker desk: কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় দফার ট্রায়ালের ফল জানাল ভারত বায়োটেক।
দেখা গিয়েছে, এই টিকা কোভিডের বিরুদ্ধে ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকর। ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে এই হার ৬৫.২ শতাংশ। আর জোরালো উপসর্গযুক্ত কোভিড ১৯ এর ক্ষেত্রে ৯৩.৪ শতাংশ কার্যকর। তবে এই তথ্য এখনও কোনও পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।
এই ট্রায়ালে ১৩০ জন উপসর্গযুক্ত রোগীর উপরে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। দেশের ২৫টি স্থানে টিকার দ্বিতীয় ডোজের অন্তত দু’সপ্তাহে বাদে সমীক্ষাটি চালানো হয়। সংস্থা জানিয়েছে, উপসর্গহীন রোগীদের ক্ষেত্রে কোনও টিকাই এখনও কার্যকারিতার কথা জানায়নি। সেটা হলে সংক্রমণ ছড়ানোর গতিতে রাশ টানা অনেক সহজ হতো।
শুক্রবার রাতে কোভ্যাক্সিনের সাফল্যের কথা জানিয়ে টুইট করেন ভারত বায়োটেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুচিত্রা এল্লা। সংস্থার তরফেও একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে তারা লেখে — উপসর্গযুক্ত কোভিড রোগীর ক্ষেত্রে কোভ্যাক্সিন ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকর।
যে ১৩০ জনের উপরে ট্রায়াল হয়েছে, তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৯৮-এর মধ্যে। এঁদের মধ্যে ১২ শতাংশের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। ০.৫ শতাংশের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছয়। তবে ভারত বায়োটেকের দাবি, অন্যান্য কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনের তুলনায় কোভ্যাক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম।
ভারতে উৎপন্ন এই টিকা এ বার বিশ্বের মানুষকে নিরাপত্তা দেবে। এমন আশা প্রকাশ করেন ভারত বায়োটেকের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৃষ্ণ এল্লা।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং এনআইভি-পুনের সঙ্গে যৌথ ভাবে টিকা উৎপাদন করেছেন ভারত বায়োটেক। আইসিএমআর-এর তরফে বলরাম ভার্গব বলেন, ‘কোভ্যাক্সিনের সাফল্য দেশকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে জায়গা করে দিল। বলরাম ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ রিসার্চ-এর সচিব এবং আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল।
কোভ্যাক্সিন বিশ্বের ১৬টি দেশে ইমার্জেন্সি ইউজ অথরাইজেশন পেয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, ইন্ডিয়া, ফিলিপিন্স, ইরান, মেক্সিকো। কোভ্যাক্সিনের ইমার্জেন্সি ইউজ লিস্টিংয়ের জন্য হু-এর ছাড়পত্র পাওয়ার চেষ্টা করছে ভারত বায়োটেক। বহু দেশে তা ইতিমধ্যেই রপ্তানি করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে চাহিদা বাড়ছে।
দেশে করোনার সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। শনিবার গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪,১১১টি নতুন কেসের হদিস মিলেছে। সুস্থতার হার ৯৭.০১ শতাংশ। মারা গিয়েছেন ৭৩৮ জন। শুক্রবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৮৫৩। যার জেরে দেশে মোট মৃত্যু ৪ লক্ষ পেরিয়েছে। আমেরিকা ও ব্রাজিল বাদে ভারত তৃতীয় দেশ যেখানে কোভিডে ৪ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top