শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে ‘স্বার্থের সংঘাত’, তুষার মেহতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ তৃণমূল

WhatsApp-Image-2021-07-02-at-6.38.21-PM.jpeg

কলকাতা: আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এ হেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এই অভিযোগে মেহতাকে ওই পদ থেকে সরানোর দাবি তুলল তৃণমূল। এই দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বারস্থ হয়েছে।
বিভিন্ন মামলায় সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করছেন মেহতা। তিনি শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে না জানিয়েই বৃহস্পতিবার এসেছিলেন শুভেন্দু। এ নিয়ে আবার পাল্টা টুইটে খোঁচা দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, মেহতার সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকে ‘স্বার্থের সংঘাত’ হচ্ছে। মেহতাকে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আইনজীবীর পদ থেকে সরাতে হবে।
তৃণমূল জানিয়েছে, শুভেন্দু একাধিক ক্রিমিনাল কেসে অভিযুক্ত। সেই সব মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। এবং সিবিআইয়ের হয়ে মামলা লড়ছেন মেহতা। তাই এমন একজনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক সলিসিটর জেনারেলের পদটি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে সই করেছেন তৃণমূলের তিন সাংসদ। তাঁরা হলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুখেন্দুশেখর রায় ও মহুয়া মৈত্র। ওই মামলাগুলিকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
তুষার মেহতা অবশ্য বৈঠকের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি তথা অফিসে শুভেন্দু অধিকারী গতকাল এসেছিলেন। তিনি কিছু না-জানিয়েই আসেন। তখন আমি অন্য একটি বৈঠকে ছিলাম। আমার অফিসের স্টাফরা তাঁকে ওয়েটিং রুমে বসান। চা খেতে দেন।’
মেহতার সংযোজন, ‘আগের বৈঠকটি শেষ হয়। তখন ব্যক্তিগত সচিব আমাকে জানান যে শুভেন্দু এসেছেন। আমি জানাই, ওঁর সঙ্গে দেখা করতে পারব না। অপেক্ষা করানোর জন্যও ক্ষমা চেয়ে নিই। আমার স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়ে উনি চলে যান। বৈঠক তো দূর, ওঁর সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি।’
কিন্তু শুভেন্দু কেন গিয়েছিলেন? সংবাদমাধ্যমে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তিনিও জানান, মেহতার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি।
অভিষেক অবশ্য এই আগাম না জানিয়ে যাওয়ার দাবি মানেননি। টুইটে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অভিষেক লেখেন — একাধিক অফিসারের উপস্থিতিতে সলিসিটর জেনারেলের বাড়িতে প্রবেশ করেন শুভেন্দু। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ছিলেন। বিষয়টা ক্রমশ জটিল হচ্ছে। আশা করা যায়, সত্যিটা প্রকাশিত হবে।
নারদ মামলায় ঘুষ নেওয়ায় অভিযুক্ত শুভেন্দু। সেই মামলায় সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করছেন তুষার মেহতা। এই পরিস্থিতিতে এমন দু’জনের বৈঠক নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top