আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশই তাদের দখলে, দাবি করল তালিবান

WhatsApp-Image-2021-07-09-at-5.46.51-PM.jpeg

প্রতীকী চিত্র

Onlooker desk: ইরান সীমান্ত-সহ আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশই এখন তাদের দখলে। শুক্রবার এমনটাই দাবি করল তালিবান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হওয়ার দিনকয়েকের মধ্যেই তাদের এই দাবি সামনে এল। তালিবান এ দিন জানায়, ইসলাম কালা নামে সীমান্তবর্তী শহরের দখল নিয়েছে তারা। তাতে ইরান সীমান্ত থেকে চিন — বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তালিবানের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মস্কোয় তালিবানের এক প্রতিনিধি দল জানায়, আফগানিস্তানের ৩৯৮-এর মধ্যে ২৫০টিই নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। এই দাবির সত্যতা যাচাই কার্যত অসম্ভব। এর বিরোধিতা করাও সরকারের পক্ষে কঠিন।
এ ছাড়া, পৃথক ভাবে তালিবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সংবাদমাধ্যমে জানান, ইসলাম কালা সীমান্ত পুরোপুরি তাঁদের দখলে চলে এসেছে। তবে কাবুলের সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ইসলাম কালা নিয়ে দু’পক্ষের লড়াই জারি রয়েছে। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের মুখপাত্র তারেক আরিয়ান বলেন, ‘সীমান্তরক্ষী-সহ আফগানিস্তানের সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। এলাকা পুনর্দখলের চেষ্টা চলছে।’
তালিবানের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। তিনি জানান, আফগানিস্তানে ইউএস মিলিটারি মিশন শেষ হবে আগামী ৩১ অগস্ট। ২০ বছর বাদে ইতি পড়ছে তাঁদের মিশনে। কারণ যে উদ্দেশ্য নিয়ে তা শুরু হয়েছিল, তা সাধিত হয়েছে। কিন্তু কাবুল গোটা দেশের উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাইডেনের কথায়, ‘বর্তমান পরিস্থিতি কোনও বিকল্প হতে পারে না। আমি আরও এক প্রজন্মের আমেরিকানদের আফগানিস্তানে যুদ্ধে পাঠাব না।’
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে উত্তর আফগানিস্তানের অনেকটা অংশ দখল করেছে তালিবান। পশ্চিমাংশও তাদের কব্জায়। প্রাদেশিক কিছু রাজধানী-সহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এলাকা দখলে রেখেছে কাবুল। বাইডেনের মতে, আফগানিস্তানের মানুষেরই নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করা উচিত। তবে তালিবানের দখল অবশ্যম্ভাবী নয় বলেই তাঁর মত।
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি জানান, সরকার পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জায়গায় রয়েছে। তবে সে পথ সহজ নয়। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্তের দুই-তৃতীয়াংশই নিয়ন্ত্রণ করছে তালিবান। তালিবানদের আক্রমণের মুখে এ সপ্তাহে হাজার খানেক আফগান সেনা তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ দিকে রুশ বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ খুলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। তিনি জানান, বৈঠকের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আফগানিস্তানে হিংসা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মত জয়শঙ্করের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top