হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিদায় ১৯৮৩ ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ের অন্যতম নায়ক যশপাল শর্মার

WhatsApp-Image-2021-07-13-at-12.49.23-PM.jpeg

Onlooker desk: প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার যশপাল শর্মা মারা গেলেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। ১৯৮৩-র ওয়ার্ল্ড কাপ বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন যশপাল। মঙ্গলবার সকালে ৬৬ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি। মিডল অর্ডার এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান ৩৭টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৪২টি আন্তর্জাতিক ওয়ান ডে-তে ভারতের হয়ে খেলেছেন।
সচিন তেন্ডুলকর, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, অনুরাগ ঠাকুর, ভেঙ্কটেশ প্রসাদ, হর্ষ ভোগলে-সহ অনেকেই যশপালের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। টুইটে সচিন ১৯৮৩-র ওয়ার্ল্ড কাপে তাঁর খেলা দেখার স্মৃতির কথা টুইটে লিখেছেন সচিন।
সেই টুর্নামেন্টে যশের সতীর্থ কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তও হাতড়েছেন স্মৃতি। টুইটে শ্রীকান্ত লেখেন — প্রাক্তন টিমমেট এবং বন্ধু যশপাল শর্মার মৃত্যুতে দুঃখিত। ১৯৮৩-র ওয়ার্ল্ড কাপ আমাদের হাতে আসার নেপথ্যে অন্যতম হিরো ছিল যশপাল। ওর আত্মার শান্তি কামনা করি।
সেই টুর্নামেন্টে কপিল দেবের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন যশপাল। কপিলের পরেই সর্বোচ্চ রান ছিল তাঁর ঝুলিতে। ৮ ইনিংসে ২৪০ রান করেন তিনি। তার মধ্যে দু’টি হাফ সেঞ্চুরি।
১৯৭৯-তে তাঁর প্রথম টেস্ট খেলা। ইংল্যান্ড সফরে। ১৯৮৩-র মধ্যে ৩৭টি টেস্ট খেলেন যশপাল। সে বছরই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলা। দিল্লিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজেয় সেঞ্চুরি এখনও সকলের স্মৃতিতে টাটকা। সর্বোচ্চ রান ১৪০। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ে। টেস্ট ক্রিকেটে মোট ১,৬০৬ রান করেন যশপাল। গড় ৩৩.৪৫।
তবে যশপাল যে দলের জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝাতে হলে ১৯৮৩-র ওয়ার্ল্ড কাপের দিকে চোখ রাখতে হবে। টুর্নামেন্টের শুরুতেই দাগ কাটেন যশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই ৮৯ করেন তিনি। তার পরের কয়েকটি ম্যাচে সে ভাবে রান করতে পারেননি। কিন্তু দলকে জেতাতেই হবে, এমন এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর ৪০ রানের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
সে বারই প্রথম সেমি-ফাইনাল হয়ে ফাইনালের পথে যাত্রার স্বপ্ন ভারতের। সেমি-ফাইনালে হারাতে হবে ইংল্যান্ডকে। ২১৪ রানের টার্গেট। ভারতের হয়ে ৬১ রান করলেন যশপাল। দলের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনি। যদিও ফাইনাল ম্যাচটা এত টানটান ছিল না। ভারত মোট ১৮৩ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। তাতে যশের অবদান ছিল ১১।
খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পরেও অবশ্য খেলার সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। ২০০৫-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচক হিসাবে কাজ করেছেন যশ। ফের ২০০৮-এ ওই প্যানেলে নাম আসে তাঁর। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হিসাবে টেলিভিশন চ্যানেলেও নিয়মিত যোগ দিয়েছেন।
যশপালের স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক ছেলে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top