আফগানিস্তানে খবর সংগ্রহে গিয়ে সংঘর্ষে হত রয়টার্সের পুলিৎজার জয়ী চিত্র সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি

WhatsApp-Image-2021-07-16-at-3.40.58-PM.jpeg

Onlooker desk: কান্দাহারে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে প্রাণ হারালেন ভারতীয় চিত্র সাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। স্পিন বোল্ডাকে আফগান সেনার সঙ্গে তালিবানের সংঘর্ষ ‘কভার’ করতে গিয়েছিলেন তিনি। আফগান স্পেশ্যাল ফোর্সের সঙ্গে এই অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েছিলেন রয়টার্সের পুলিৎজার জয়ী চিত্র সাংবাদিক দানিশ।
দানিশের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফরিদ মামুন্দজে। শুক্রবার টুইটে তিনি লেখেন — বন্ধু দানিশ সিদ্দিকি গত রাতে কান্দাহারে নিহত হয়েছেন। তাঁর হত্যার খবরে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। ভারতীয় সাংবাদিক ও পুলিৎজারে সম্মানিত দানিশ আফগান সেনার সঙ্গে কাজ করছিলেন। কাবুলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই দেখা হয়েছিল ওঁর সঙ্গে। সেটা সপ্তাহদুয়েক আগের ঘটনা। দানিশের পরিবার ও রয়টার্সের প্রতি সমবেদনা জানাই।
টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করেছিলেন দানিশ। পরে চিত্র সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। ২০০৮ এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০১০-এর জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের সঙ্গে ছিলেন। তারপরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে যোগ দেন।
রয়টার্সের তরফে ২০১৮-য় রোহিঙ্গা শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে রিপোর্ট করেন। তার স্বীকৃতি হিসাবেই দানিশ ও তাঁর সহকর্মী আদনান আবিদি পুলিৎজার পান।
বিশ্বের নানা প্রান্তে নানা বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন দানিশ। তার মধ্যে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ, রোহিঙ্গা শরণার্থী, হংকংয়ের প্রতিবাদ আন্দোলন ও নেপালের ভূমিকম্প অন্যতম।
গত ক’দিন ধরে সংঘর্ষ কবলিত কান্দাহারে কাজ করছিলেন দানিশ। বৃহস্পতিবারও আফগান স্পেশ্যাল ফোর্সের সঙ্গে ছিলেন তিনি। সেই সময়ে তালিবান হামলা চালায়। তাতেই প্রাণ হারান দানিশ। তাঁর শেষ স্টোরি ছিল এক আহত পুলিশকর্মীকে নিয়ে। যাঁকে তালিবানের ঘেরাটোপ থেকে আফগান কম্যান্ডোরা উদ্ধার চেষ্টা করছিলেন।
গত ১৩ জুন দানিশ জানিয়েছিলেন, যে গাড়িতে তিনি ও স্পেশ্যাল ফোর্সের সদস্যরা যাচ্ছিলেন, সেটার উপরে হামলা চালানো হয়। টুইটে লিখেছিলেন — বরাতজোরে সুরক্ষিত আছি। একটি রকেট ওভারহেড আর্মার প্লেটে হানা চালাল। সেই ছবিও তুললাম।
আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করার পরে দেশজুড়ে দাপাদাপি শুরু করেছে তালিবান। বহু গ্রাম দখল করে নিয়েছে তারা। উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তের অনেক জেলাও চলে গিয়েছে তালিবানের দখলে। দেশের ৩৪টির মধ্যে ২৯টি প্রদেশেই তারা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে। যদিও ধ্বংসলীলার কথা অস্বীকার করেছে তালিবান।
তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাচ্ছে আফগান সেনা। ১৯০টি জেলার দখলই নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করছে। কাবুলের সিনিয়র সরকারি আধিকারিক নাদের নাদেরি এ কথা জানান।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top