দৌড় অব্যাহত, দু’মাসের মধ্যে ৩৪ দফায় ১০ শতাংশ বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

fuel-price-rise.jpg

Onlooker desk: রবিবার ফের বাড়ল পেট্রোপণ্যের দাম।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এ দিন পেট্রলের দাম লিটারে ৩৫ পয়সা এবং ডিজেল ১৮ পয়সা বাড়িয়েছে। দু’মাসে এই নিয়ে ৩৪ বার বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের দর। গত ৪ মে থেকে এ পর্যন্ত দুই জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে।
এই সময়ে পেট্রলের দাম বেড়েছে লিটারে ৯ টাকা ১১ পয়সা। ডিজেল ৮.৬৩ টাকা।
রবিবারের বৃদ্ধির ফলে দিল্লি ও কলকাতায় পেট্রলের দাম লিটারে ১০০ টাকা কার্যত ছুঁয়ে ফেলেছে। দিল্লিতে এ দিন এক লিটার পেট্রলের দাম হয়েছে ৯৯.৫১ টাকা। কলকাতায় ৯৯.৪৫ টাকা। ডিজেল যথাক্রমে ৮৯.৩৬ টাকা ও ৯২.২৭ টাকা।
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের দিল্লি দপ্তরের দরই সারা দেশের বেঞ্চমার্ক। তবে বিভিন্ন রাজ্যের কর ও স্থানীয় লেভি বিভিন্ন হওয়ায় তেলের দাম এক এক জায়গায় এক এক রকম।
মুম্বই, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে এক লিটার পেট্রলের দর ১০০ টাকা পেরিয়েছে আগেই। রবিবার মুম্বইয়ে এক লিটার পেট্রলের দাম ১০৫.৫৮ টাকা। ডিজেল ৯৬.৯১ টাকা।
জ্বালানি তেলের দাম সবচেয়ে বেশি রাজস্থানের গঙ্গানগরে। সেখানে পাম্পগুলিতে এক লিটার পেট্রল ১১০.৭৭ টাকা ও ডিজেল ১০২.৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, অন্ধ্র প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ওডিশা, মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, পাঞ্জাব, বিহার, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই দর ১০০ ছাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দাম এবং কর, দু’য়ে মিলে পেট্রল-ডিজেলের দর ক্রমশ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেল উৎপাদনকারী গোষ্ঠী ওপেক (অর্গানাইজেশন অফ দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ এবং রাশিয়া-সহ তার সঙ্গী রাষ্ট্র)। তেলের চাহিদা বাড়লেও আপাতত জোগানে কিছুটা রাশ টেনেছে তারা। সে কারণে শুক্রবারও আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দাম বেড়েছে।
এর উপরে রয়েছে দেশের কর। দিল্লিতে পেট্রলে কেন্দ্রীয় কর ৩৩.২৯ শতাংশ এবং রাজ্য কর ২৩.০৭ শতাংশ।
২০২০-তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে। কিন্তু অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়ে দেয় মোদী সরকার। অতিমারীর জেরে ধস্ত অর্থনীতির হাল ফেরাতে একই পথ ধরে রাজ্যগুলি।
এ দিকে, দেশের পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬৬ দিন দাম বাড়াতে পারেনি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। সে কারণে এখন পাম্পে বিক্রি হওয়া তেলের দরও বেশি। সংস্থাগুলি সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top