জম্মু-হানায় পাক যোগের ইঙ্গিত সেনাকর্তার, নেপাল সীমান্তে উদ্ধার আটটি ড্রোন

WhatsApp-Image-2021-06-30-at-11.00.36-PM.jpeg

Onlooker desk: গত রবিবার জম্মুতে বায়ুসেনার বিমানবন্দরে ড্রোন হানার পিছনে পাক-যোগের ইঙ্গিত দিলেন এক লেফটেন্যান্ট জেনারেল। এই ঘটনায় পাক জঙ্গিগোষ্ঠী জৈশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার যোগও রয়েছে।
বুধবার সংবাদমাধ্যমে এ কথা জানান শ্রীনগরে ১৫ কর্পসের কর্পস কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি পি পাণ্ডে। তিনি জানান, যে ড্রোন হামলা সে দিন হয়েছিল, তার পিছনে ‘রাষ্ট্রের মদত’ রয়েছে।
সেনা এ ধরনের ড্রোন-প্রযুক্তি ও ড্রোন-যুদ্ধ সম্পর্কে অবহিত। এগুলি রাষ্ট্রের মদত ছাড়া হয় না। এমন হামলা ভবিষ্যতে আরও হবে এবং তা বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন পাণ্ডে। তবে সেনাও সতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন হামলা ঠেকিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পাণ্ডে বলেন, ‘এ ধরনের জিনিস এবং তার প্রযুক্তি আমাদের চেনা। এগুলো তো রাস্তার ধারে তৈরি হয় না। এর পিছনে কোনও রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট পদ্ধতি ও প্রযুক্তি রয়েছে। এবং রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট প্রযুক্তি মানে জৈশ ও লস্করের যোগ।’
তদন্ত সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। তবে ডেটার প্রাথমিক বিশ্লেষণে কোনও রাষ্ট্রের কিছু সহযোগিতার ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে।
বায়ুসেনার বিমানবন্দরে হামলা এই প্রথম। কিন্তু এমন হামলা প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে ড্রোনের সাহায্যে সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র ফেলার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।
২০১৯-এর অগস্টে অমৃতসরে একটি ভাঙা ড্রোন পাওয়া যায়। তার পরের মাসেই ধরা পড়ে কয়েকজন জঙ্গি। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তারা আটটি ড্রোনে বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র ও ড্রাগ ফেলার কথা স্বীকার করে।
গত বছর জুনে জম্মুর কাঠুয়ায় বিএসএফ একটি স্পাই ড্রোন গুলি করে নামায়। তারপরে সীমান্ত বরাবর একটি টানেলের খোঁজ মেলে।
এ দিকে, এ বার নেপাল সীমান্ত বরাবর উদ্ধার হলো ড্রোন। বিহারে আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা আটটি ক্যামেরা লাগানো ড্রোন ধরেন। এই সূত্রে তিনজন স্মাগলারকে গ্রেপ্তার করে সশস্ত্র সীমা বল। তাদের কাছেই চিনা এই ড্রোনগুলি পাওয়া গিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে সশস্ত্র সীমা বলের কাছে খবর ছিলই। সেই মতো মতিহারিতে স্মাগলারদের গাড়িটি আটকানো হয়। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে লুকোনো ড্রোন।
পূর্ব চম্পারনের এসএসপি নবীন চন্দ্র ঝা জানান, ধৃত তিন স্মাগলারের মধ্যে দু’জন সীতামাড়ির বাসিন্দা। একজন কুণ্ডোয়া চৈনপুরের। কী উদ্দেশ্যে এই ক্যামেরা লাগানো ড্রোনগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। তদন্তে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
তবে এখনও ধৃতদের থেকে বেশি কিছু জানা যায়নি। তাই তাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলাও দায়ের করেছে পুলিশ। সিনিয়র পুলিশ অফিসার জিতেন্দ্র কুমার বলেন, ‘অভিযুক্তরা স্থানীয়। তাদের দাবি, বিয়ের ভিডিয়ো করার জন্য ড্রোনগুলি নিয়ে যাচ্ছিল। তদন্তে কী উঠে আসে দেখা যাক।’
গত রবিবার জম্মু-হামলার পর ড্রোন নিয়ে দেশজুড়েই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top