প্রেসিডেন্সি জেল থেকে প্যারোলে ছাড়া পাওয়া যাবজ্জীবন আসামীর অস্বাভাবিক মৃত্যু

WhatsApp-Image-2021-07-02-at-1.07.44-AM-1.jpeg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: অস্বাভাবিক মৃত্যু হল প্রেসিডেন্সি জেল থেকে প্যা রোলে ছাড়া পাওয়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক অপরাধীর। মৃতের নাম রতন শিকদার (৭২)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের আবুজহাটি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদয়পুর বাদলাগড়িয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার বেলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই অপরাধীর মৃত্যুর খবর মেলে। তার পরে জামালপুর থানার পুলিশ নড়েচড়ে বসে।
রতন শিকদারকে উদ্ধার করে জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার মৃতের সুরতহাল (ইনকোয়েস্ট) সম্পূর্ণ করার পর মৃতদেহ ময়না-তদন্তে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বর্ধমান মেডিক্যা ল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মৃত ব্যক্তির দেহের ময়না-তদন্ত হবে।
মৃত ব্যক্তির ছেলে রঞ্জন শিকদার বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁর বাবা রতন শিকদারের যাবজ্জীবন সাজা হয়। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি আলিপুরের প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন।
কোভিড অতিমারীর কারণে চলতি বছরের ১৭ মে তিনি অস্থায়ী ভাবে (প্যারোলে) জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে আসেন।
আগামী ১৮ জুলাই রতন শিকদারের ফের প্রেসিডেন্সি জেলে ফিরে যাওয়ায় কথা ছিল। রঞ্জন শিকদার দাবি করেন, তাঁর বাবা টিবি রোগের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের সমস্যাতেও ভুগছিলেন।
টিবি রোগের চিকিৎসার জন্যে তাঁর বাবাকে কিছুদিন আগে জামালপুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ রেফার করেননি। তাই জামালপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর বাবার চিকিৎসা করতে চাননি। রঞ্জন জানান, এরপর প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠান। গত শুক্রবার তিনি তাঁর বাবাকে বর্ধমান মেডিক্যা ল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান।
কিন্তু বুধবার থেকে তাঁর বাবার অসুস্থতা বাড়ে। রঞ্জন জানান, বৃহস্পতিবার বেলার দিকে বাড়িতে বিছানায় শুয়ে ছিলেন রতন। এমন সময় হঠাৎই সংজ্ঞা হারান তিনি। জামালপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রতনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন, রতন প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন। প্যারোলে ছাড়া পেয়ে কিছুদিন আগে তিনি বাদলাগড়িয়া গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। এ দিন ব্লক হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে জানান।
মহকুমাশাসকের নির্দেশ মতো এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে তিনি মৃত ব্যক্তির দেহের সুরতহাল (ইনকোয়েস্ট) করেন। ইনকোয়েস্ট করার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহ ময়না-তদন্তে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top