সংঘর্ষে জেরবার কান্দাহার থেকে কূটনীতিক, জওয়ানদের ফিরিয়ে আনল ভারত

WhatsApp-Image-2021-07-11-at-1.14.53-PM.jpeg

তালিবানের সঙ্গে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হচ্ছে এই কান্দাহার

Onlooker desk: সংঘর্ষের মুখে কান্দাহারে ভারতীয় কনসুলেটের ৫০ জন কূটনীতিক ও অন্য কর্মচারী এবং জওয়ানদের দিল্লিতে ফিরিয়ে আনল ভারত।
কান্দাহারের কাছে তালিবানের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে আফগান সেনার। মার্কিন সেনা দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর দখল নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে তালিবান। এই পরিস্থিতিতে কমসুলেটের কর্মী-আধিকারিক এবং জওয়ানদের বায়ুসেনার বিমানে উদ্ধার করা হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি এ নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে লেখা হয়েছে — আফগানিস্তানে পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে ভারত। আমাদের কর্মী-আধিকারিকদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কান্দাহারে ভারতীয় কনসুলেট বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু কান্দাহার শহরের কাছে প্রবল সংঘর্ষের কারণে সেখানকার ভারতীয় কর্মী-আধিকারিকদের আপাতত ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে একেবারেই সাময়িক ভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে কনসুলেট চলবে।
কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলে মঙ্গলবারই জানানো হয়েছিল। কান্দাহার এবং মাজার-এ-শরিফের কনসুলেটগুলিও চালু থাকবে। হেরাট এবং জালালাবাদের কনসুলেট গত বছর এপ্রিলে অতিমারীর জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আফগানিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। ভারত তার উপরে নজর রেখেই চলছিল। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের নিরাপত্তার উপরে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে চলছিল কাটাছেঁড়া।
আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই সেনা প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। অগস্টের মধ্যে দু’দশকের সামরিক কার্যকলাপ পুরোদস্তুর গুটিয়ে নেবে আমেরিকা। তার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদী হামলায় দীর্ণ হচ্ছে আফগানিস্তান।
এ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করছে ভারত। সম্প্রতি মস্কোয় গিয়েও এ কথা বলেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত মঙ্গলবার পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতের বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে কথা হয় আফগান রাষ্ট্রদূত ফরিদ মামুন্দজের।
ভারতীয় পর্যটকদেরও সতর্ক করা হয়েছে। যাঁরা আফগানিস্তানে যাচ্ছেন, থাকছেন বা কাজ করছেন, তাঁদের ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে বলেছে ভারত। নেহাত প্রয়োজন ছাড়া আফগানিস্তানে যেতে নিষেধও করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘বিপজ্জনক’। সন্ত্রাসবাদী দলগুলি একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে নাগরিকদের লক্ষ করে। তা ছাড়া ভারতীয়দের অপহৃত হওয়ার বাড়তি ও গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্ত্রক জানিয়েছে।
২০০১-এর ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলার পর সে বছরই পাল্টা দেয় আমেরিকা। ওসামা বিন লাদেনের আল কায়দার হানাদারির উপযুক্ত জবাব দিতে। লাদেন পরে পাকিস্তানে গা-ঢাকা দেন। ২০১১-র মে মাসে খতম করা হয় তাঁকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top