শিরোনামে পেগ্যাসাস। স্পাইওয়্যারের থাবা থেকে আপনি সুরক্ষিত তো?

WhatsApp-Image-2021-07-19-at-2.38.16-PM.jpeg

Onlooker desk: আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফের পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যার (Pegasus Spyware)। বেশ ক’জন পরিচিত সাংবাদিক এবং রাজনীতিকের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগে শিরোনামে উঠে এসেছে সে। ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও গ্রুপ এই স্পাইওয়্যার তৈরি করে। কী এই স্পাইওয়্যার? আমার-আপনার ফোনও কি এতে সংক্রামিত হতে পারে? উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।
পেগ্যাসাস কী?
এই স্পাইওয়্যার সফ্টওয়্যার আইওএস বা অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে চলা ফোন কিংবা অন্য ডিভাইসে ইনস্টল করা যায়। প্রথমে কোনও ম্যালিশাস লিঙ্ক দিয়ে স্পাইওয়্যার সফ্টওয়্যার ইনস্টল করা হত। লিঙ্কে ক্লিক করলেই একটি ব্যাকডোর তৈরি হয়ে যেত। যার মাধ্যমে আক্রান্তের স্মার্টফোনের পুরো অ্যাক্সেস চলে যেত হ্যাকারের কাছে। অর্থাৎ হ্যাকার ওই ফোনের মেসেজ, কল রেকর্ড, পাসওয়ার্ড, লোকেশন থেকে শুরু করে আইমেসেজ, জিমেল, ভাইবার, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং স্কাইপে পুরোপুরি অ্যাক্সেস করতে পারত।
সাম্প্রতিক ভার্সনে আক্রান্তকে কিছুই করতে হবে না। সফ্টওয়্যারটি বর্তমানে যে ভাবে তৈরি তাতে সরাসরিই ফোনের অ্যাক্সেস চলে যাবে হানাদারের কাছে।
অনেক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, সামান্য একটি হোয়্যাটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমেও ম্যালওয়্যারে সংক্রামিত করা যাবে ফোনকে। এমনকী, সে জন্য ব্যবহারকারীকে ওই ফোন রিসিভ পর্যন্ত করতে হবে না।
এনএসও গোষ্ঠীর দাবি, তারা সরকারকে অপরাধ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সাহায্য করতেই এই সফ্টওয়্যার বানিয়েছে। অপরাধমূলক ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, কেবল এমন কাজকর্ম ঠেকাতেই স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হবে, এমন চুক্তিও তারা তৈরি করেছে বলে ওই গোষ্ঠীর দাবি।
প্রথম হদিস মেলে কবে?
এই স্পাইওয়্যারকে প্রথম চিহ্নিত করা যায় ২০১৬-য়। সফ্টওয়্যারটি এতই শক্তিশালী যে আইফোনের মতো জোরদার নিরাপত্তা ভাঙাও তার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। ২০১৬-র পর সফ্টওয়্যারটির অনেক পরিমার্জন ও উন্নতি হয়েছে। ব্যবহারকারীর কোনও অংশগ্রহণ বাদেই তা ফোন বা ডিভাইসে হানাদারি চালাতে পারে। যার মানে হল, এই স্পাইওয়্যারের হদিস পাওয়া বা তাকে আটকানো অসম্ভব।
পেগ্যাসাস সফ্টওয়্যার ফোনে হানাদারি চালায় কী ভাবে?
এই স্পাইওয়্যারকে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোন, দু’টিতেই ব্যবহার করা যায়। আইফোনের ক্ষেত্রে মেল অ্যাপের দুর্বলতার ফাঁক গলে ঢুকছে সে। অ্যাপল ২০২০-র এপ্রিলে একটি আপডেটের মাধ্যমে সেই ফাঁক কিছুটা মেরামত করেছে। এখন অন্য কোনও দুর্বলতা খুঁজে বের করেছে পেগ্যাসাস।
অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে ৪.৪.৪ বা তার বেশি ভার্সনের ফোনে গ্রাফিক্স লাইব্রেরিকে নিশানা করছে স্পাইওয়্যারটি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও নিশানা হয়েছেন অনেকে।
চিন্তা কাদের?
দেখা যাচ্ছে সরকারি আধিকারিক, মন্ত্রী, আমলা এবং সাংবাদিকদের টার্গেট বানাচ্ছে পেগ্যাসাস। এ ধরনের কোনও ক্ষেত্রের সঙ্গে আপনি জড়িত থাকলে সাবধান হোন।
পেগ্যাসাস থেকে স্মার্টফোনকে বাঁচাবেন কী করে?
বর্তমানে এই সফ্টওয়্যার যে পদ্ধতি ব্যবহার করছে, তাতে ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া কার্যত অসম্ভব। তবে ব্যক্তিগত তথ্য যাতে বেরিয়ে না পড়ে, সে জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন। প্রথমত, স্পার্টফোনটি নিয়মিত আপডেট করবেন। অখ্যাত ডেভেলপারদের অ্যাপ বা থার্ড-পার্ট অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্মার্টফোনে কোনও ধরনের গোপনীয় কাজকর্ম আপাতত করবেন না।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top