নারদে মমতার হলফনামা গৃহীত, দিতে হবে ৫ হাজার জরিমানা

mamata-banerjee.jpg

কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্ট হলফনামা গ্রহণ করল। সেই সঙ্গে জরিমানাও করা হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
নারদ মামলায় সময়মতো হলফনামা দাখিল না-করায় এই জরিমানা। মমতা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এ জন্য ৫০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, নারদের সূত্রে চার নেতাকে ধরার প্রতিবাদে মমতা সিবিআই দপ্তরে হাজির হয়েছিলেন। সেই সূত্রে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। সিবিআই দপ্তরের বাইরেও ব্যাপক গোলমাল বাধে। সেই সূত্রে এই মামলায় মমতা ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে পার্টি করা হয়েছে।
হাইকোর্ট প্রথমে মমতা ও মলয়ের হলফনামা নিতেই চায়নি। তাদের যুক্তি ছিল, এতদিন হলফনামা দাখিল করা হয়নি। এখন তা গৃহীত হবে না। এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান মমতা। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের এই বক্তব্য স্থগিত করে দেয়। তারা জানায়, মমতা ও মলয়কে হাইকোর্টে নতুন করে আবেদন জানাতে হবে।
সেই মতো ফের আবেদন জানানো হয় হাইকোর্টে। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয়। তবে সে দিন নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আজ, বুধবার তা গ্রহণের পাশাপাশি করা হলো জরিমানা।
গত ৯ জুন হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ হলফনামাটি নিতে অস্বীকার করে। সেই বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল। বেঞ্চ বলেছিল — তৃণমূল নেতানেত্রীরা সময়মতো হলফনামা দাখিলের ঝুঁকি নেননি। তাঁদের খেয়াল খুশি মেনে তা নেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে গত ২১ জুন সুপ্রিম কোর্টে যান মমতা।
গত ১৭ মে নারদ মামলায় চার মন্ত্রী-নেতাকে ধরে সিবিআই। তাঁরা হলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও বিধায়ক মদন মিত্র। প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও ধরা হয়। খানিকক্ষণের মধ্যে নিজাম দপ্তরে পৌঁছে যান মমতা। সেখানে ছ’ঘণ্টা থাকেন।
এ দিকে তৃণমূল সমর্থকরা সেখানে জড়ো হন। তাঁরা ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। পাথরও ছুড়তে থাকেন বলে অভিযোগ। সিবিআই চায়, এই মামলা বাংলা থেকে সরানো হোক। এ জন্য তারা ‘মবোক্রেসি’র যুক্তি দিয়েছে। ১৭ মে-র ঘটনাও তুলে ধরেছে।
সিবিআইয়ের সেই বদলি-আবেদনের পাল্টা এই হলফনামা।
নারদ স্টিং অপারেশনটি হয়েছিল ২০১৪ সালে। ভিডিয়োয় সাতজন তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ, চার মন্ত্রী, একজন বিধায়ক ও এক পুলিশ অফিসারকে ‘ঘুষ’ নিতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োয় মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীকেও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই এখনও নতুন করে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
ভিডিয়ো টেপগুলি ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রকাশ্যে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top